লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ২ নম্বর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার আমজাদ হোসেন ওরফে ভুলুর বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে অভিযুক্ত আমজাদ হোসেনের নিজ ঘরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়।
সরেজমিনে কথা হলে ভুক্তভোগী শিশুটি গণমাধ্যমকে জানায়, সে নির্বাচনী মিছিলের পেছনে গেলে আমজাদ হোসেন তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে গিয়ে বলেন, ‘এদিকে আসো, তোমাকে কিছু দেবো।’ পরে তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক নির্যাতনের চেষ্টা চালান। এ সময় অভিযুক্তের মেয়ে ঘরে ঢুকে পড়লে ভিকটিমকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সে খাটের নিচে লুকিয়ে সুযোগ বুঝে বাড়িতে চলে আসে। শিশুটি ঘটনার বিচার দাবি করে।
ভুক্তভোগীর মা গণমাধ্যমকে বলেন,“আমার ছোট্ট মেয়ের সঙ্গে নৃশংস নির্যাতন ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলে নেতৃবৃন্দ বলেন—এখন নির্বাচন, পরে দেখা যাবে। বরং আমাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে যেন আমরা থানা বা আদালতে না যাই। আমি আমার সন্তানের ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বেলাল বেপারী অভিযোগের সত্যতা দাবি করে বলেন, “ঘটনাটি সত্য। আগেও অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিক মেয়েকে যৌন হয়রানি করেছে। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় এবং অভিযুক্ত দলীয় পরিচয়ের কারণে চেয়ারম্যান তাকে রক্ষা করেছে। এখন নির্বাচন সামনে থাকায় আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছি না। শিশুটির উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন ভুলু গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি একটি বিষয় নিয়ে তাকে মারধর করেছি—এটা সত্য। তবে ধর্ষণের অভিযোগ মিথ্যা। আপনারা সাংবাদিক হন, এমপি হন বা মন্ত্রী হন—যা ইচ্ছে করেন। যেকোনো শাস্তি হলে আমি মেনে নেব।” পরে নিউজ না করার জন্য দুই হাজার টাকা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ করেন তিনি।
অভিযুক্তের ছোট মেয়ে গণমাধ্যমকে জানান, তিনি তার বাবাকে একটি বাঁশের টুনি দিয়ে শিশুটিকে মারধর করতে দেখেছেন, তবে অন্য কিছু দেখেননি।
এদিকে, রায়পুরে ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চের নেতারা সরজমিনে গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টার আলামত পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “এখনো পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল অবিলম্বে শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ইখা