এইমাত্র
  • পদত্যাগ করলেন ঢাবি ভিসি
  • ভোটের উদ্দেশ্যে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ নেই পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে
  • ভূঞাপুরে ভোট চাইতে গিয়ে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
  • এক ধাপ অবনতি, দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১৩তম: টিআইবি
  • এবারের ইলেকশনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল
  • বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী যাতায়াত বন্ধ
  • প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাদ্য মজুত আছে, যিনি আসবেন চাপ হবে না : খাদ্য উপদেষ্টা
  • রাশেদ খানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
  • ভালুকায় শেষ মুহূর্তে উত্তাপ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
  • মবের চেষ্টা করলে শুধু কেন্দ্র নয়, আসনের ভোট স্থগিত হবে: আইজিপি
  • আজ মঙ্গলবার, ২৭ মাঘ, ১৪৩২ | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    গ্রামাঞ্চলে অন্ধকারে গণভোট

    মো. জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
    মো. জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

    গ্রামাঞ্চলে অন্ধকারে গণভোট

    মো. জামাল হোসেন, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১১ পিএম

    আর মাত্র ছয় দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত প্রচার–প্রচারণায়। নিজ দলের পক্ষে ভোট চাইতে প্রার্থীরা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। চলছে মিছিল ও সমাবেশ। তবে একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট সম্পর্কে গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো রয়ে গেছেন অস্পষ্টতায়।


    সচেতন ভোটারদের মধ্যে গণভোট নিয়ে কিছুটা ধারণা থাকলেও গ্রামাঞ্চলের অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত ভোটারদের অনেকেই জানেন না ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ কিংবা এটি কীভাবে দিতে হবে। ফলে গণভোট নিয়ে তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।


    আসন্ন নির্বাচনে সীমান্ত জনপদ শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত যশোর–১ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এই আসনের অন্তর্ভুক্ত।


    এই আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ—মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যশোর–১ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।


    বেনাপোল ও উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থাকলেও গণভোটের বিষয়টি তেমন আলোচনায় নেই। অধিকাংশ ভোটারই জানিয়েছেন, তাঁরা শুধু নিজেদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দেবেন।


    সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ থাকলেও গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই অনেকেরই। সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানানো হলেও বাস্তবে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে তেমন কোনো প্রচারণা চোখে পড়েনি।


    প্রার্থীরাও মূলত নিজেদের প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়ে তাঁরা খুব একটা কিছু বলছেন না। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।


    বেনাপোল পৌরসভার দিঘীরপাড় গ্রামের ভোটার আনিছুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ–না ভোটের কথা আমি কিছুই বুঝি না। আমি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রতীকে ভোট দিয়ে আসছি। প্রতীক ছাড়া ভোট দেওয়া আমার জন্য কঠিন।’


    ওই এলাকার ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, ‘যাকে ভালো লাগবে তাকেই ভোট দেব।’


    শার্শার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ–না ভোট সম্পর্কে কিছুই জানি না।’


    বাগআঁচড়া এলাকার নাজিম উদ্দিন জানান, একদিন ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের প্রচারণার একটি গাড়ি এসেছিল। এরপর আর কোনো প্রচার চোখে পড়েনি।

    তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতীকেই ভোট দিয়ে আসছি।’


    যশোর–১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমরা প্রচারের সময় আমাদের প্রতীকের ভোট চাওয়ার পাশাপাশি গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়েও প্রচার করছি। আমাদের নেতা-কর্মীরাও এ বিষয়ে ভোটারদের জানাচ্ছেন।’


    জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ আজীজুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতিটি সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও প্রচারণায় আমাদের প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের বিষয়েও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করছি। আশা করি, এই আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হবে।’


    শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর থেকে হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পর্যায়ের সভা-সমাবেশ, মাইকিং, ভোটের গাড়ি ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গণভোট বিষয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ ও প্রভাব তুলে ধরা হচ্ছে, যাতে ভোটারদের বিভ্রান্তি দূর হয়।’

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…