এইমাত্র
  • পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীদের ভোট সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ৪ দেশ
  • কুমিল্লায় ৯৩৪টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
  • ৪ উপায়ে জানতে পারবেন আপনার ভোটকেন্দ্র কোথায়
  • কুড়িগ্রামে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের জামায়াতে যোগদান
  • তিতাসে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রের চালান উদ্ধার
  • যশোর জেনারেল হাসপাতালে ‘দাঁড়িপাল্লা’ লোগোযুক্ত প্যানা, বিতর্ক
  • ক্যাম্প ছেড়ে লোকালয়ে বসবাস, ৭ শতাধিক রোহিঙ্গা আটক
  • কালিয়াকৈরে ট্রাকচাপায় নারী শ্রমিক নিহত
  • রাজধানীতে আজ ৬ স্থানে জনসভা করবেন তারেক রহমান
  • যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে করবেন আলোচনা
  • আজ রবিবার, ২৫ মাঘ, ১৪৩২ | ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    রাজনীতি

    বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনা হবে: তারেক রহমান

    সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
    সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৭ এএম

    বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনা হবে: তারেক রহমান

    সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৭ এএম

    জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) এর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত নাম বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস) এবং এই বাহিনীর সাবেক ইউনিফর্ম ফিরিয়ে আনা হবে করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেই লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’/ ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ অথবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

    শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও পরিবারের নিয়ে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপকমিটি আলোচনা সভার আয়োজন করে।

    তারেক রহমান বলেন, “২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআর এর নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিল। এমনকি তাদের পোশাকের রং ও পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। আমি আপনাদের সামনে একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করতে চাই। জনগণের রায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআর এর নাম পুনর্বহাল করা হবে।”

    তিনি বলেন, “বক্তব্য দেয়ার আগে সাবেক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা আমাকে সেনাবাহিনী জন্য কিছু সুপারিশ তুলে দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু কিছু বিধিমালা পরিমার্জন বা সংস্কারসহ এসব সুপারিশ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। তবে এতোটুকু বলতে পারি আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আপনাদের উপস্থাপিত এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর সাবেক এবং বর্তমান সদস্যদের সমন্বয়ে আমরা একটি কমিটি গঠন করব। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাবি-দাওয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।”

    তারেক রহমান আরও বলেন, “সেনাবাহিনী আমার কাছে বৃহত্তর পরিবার বলে মনে হয়। সেনানিবাসে আমার বেড়ে ওঠা। ছোট বেলায় আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। আমি বড় হয়ে দেখেছি সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার এক ধরনের নির্ভরতা ছিল, সম্মান ছিল। মা সব সময় মনে করতেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকা দরকার। সন্তান হিসেবে আমার পিতাকে নিয়ে যেমন আমি গর্ব করি, তেমনি বিশ্বাস করি একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি সেনাবাহিনীকে গর্বিত করেছিলেন।”

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রিয় জনগণের কাছে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “শহীদ জিয়াকে নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক জনগণ যেমন গর্বিত, তেমনি আমি, আমার পরিবার  বিশ্বাস করে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীও তেমন গর্বিত। জনগণ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রহরী হিসেবে মনে করে। সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে সংযুক্ত করা হলে মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় বলে মনে করি।”

    তিনি আরও বলেন, “বিগত দেড় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং গৌরব সম্পর্কে সেনা কর্মকর্তা এবং সদস্যরা নিজেরা নিজেদের বিবেককে  জিজ্ঞেস করলে হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।  তাঁবেদার এবং অপশক্তির কবলে পড়ার পর দেশের গণতন্ত্র শুধু হরণ হয়নি, একইসঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল। এমনকি পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকান্ডের দিন সেনাবাহিনী যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি বা রাখতে দেয়া হয়নি।

    সেনাবাহিনীর হারিয়ে যাওয়া গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া হবে আমি এরকম কথা বলতে চাই না বলে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না এটা অর্জনের বিষয়। গৌরব ধারণ করার বিষয়। সেনাবাহিনীর গৌরব সেনাবাহিনীকে রক্ষা করতে হবে। সেনাবাহিনীর নিজেদের সম্মান এবং মর্যাদা সম্পর্কে নিজেদেরকেই সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।

    তিনি বলেন, তবে একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে একটি কথাই বলতে পারি, জনগণের রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেনাবাহিনীকে অবশ্যই রাজনৈতিক কোনো স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনীর সম্মান ভূলুণ্ঠিত হয় এমন কোনো কাজ-বিএনপি অতীতেও করেনি বর্তমানেও না, ভবিষ্যতেও করবে না। কারণ বিএনপির সব সময় বাংলাদেশের পক্ষের দল। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের শক্তি।

    তারেক রহমান আরও বলেন, সেনাবাহিনী অবশ্যই রাজনৈতিক সম্পর্কের সচেতন থাকবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া উচিত হবে না। রাজনীতির চাদরে তাদের পেশাদারিত্ব যেন আবর্তিত হয়ে না যায় সে ব্যাপারে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের ও সদস্যদের সচেতন থাকা জরুরী।

    বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন মেজর (অব.) মিজানুর রহমান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এডিসি হিসেবে কাজ করা কর্নেল (অব.) হারুনুর রশিদ খান, মেজর (অব.) জামাল হয়দার, বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সন্তান রাকিন আহমেদ প্রমুখ।

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…