যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভোটের প্রচারণার উদ্দেশ্যে কৌশলে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের লোগো সম্বলিত একটি প্যানা সাঁটানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশে প্যানাটি খুলে ফেলা হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, জরুরি বিভাগের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিদা পারভীনের নির্দেশে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর ও জরুরি বিভাগে একটি আইনগত সচেতনতা বার্তা সংবলিত প্যানা সাঁটানো হয়। সেখানে সরকারের লোগোর পাশে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে।
প্যানাটিতে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট আইনগত বিধান তুলে ধরে বলা হয়—হাসপাতালে এসে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৮৬ ও ৩৫৩ ধারার বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
প্যানায় উল্লেখ করা হয়, ১৮৬ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজে বাধা প্রদান বা দুর্ব্যবহার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এর জন্য তিন মাসের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
এ ছাড়া ৩৫৩ ধারা অনুযায়ী কর্তব্যরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর আক্রমণ বা বলপ্রয়োগ অজামিনযোগ্য অপরাধ, যার শাস্তি তিন বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয়ই হতে পারে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের রোগী ও দর্শনার্থীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, প্যানাটিতে ব্যবহৃত লোগোটি পরোক্ষভাবে একটি রাজনৈতিক দলের প্রচারণা হিসেবে কাজ করছে, যা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের শামিল। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই বলেই তারা কৌশলে এমনটি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতা ডা. ফারুক এহতেশাম পরাগ বলেন, ‘প্যানায় যে আইন উল্লেখ করা হয়েছে, তা স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত সবাই জানেন। এটি প্রচারের বিষয় নয়। বরং নির্বাচনের আগে একটি মহল এটিকে প্রচারণার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।’
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রচারণা নয়। না বুঝেই জরুরি বিভাগের ইনচার্জ আইন নির্দেশিকার ব্যানারে দাঁড়িপাল্লার লোগো ব্যবহার করেছেন। বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় ৭ ফেব্রুয়ারি ব্যানারটি খুলে ফেলা হয়েছে।
ইখা