রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হলেও বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে প্রার্থীদের লড়াই এবার মাঠ ছাড়িয়ে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। হলফনামায় তথ্য গোপন ও ঋণখেলাপির অভিযোগ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি আইনি লড়াই।
নির্বাচনী এলাকা সূত্রে জানা যায়, এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজের হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে গত ৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. দবিবুর রহমান। অভিযোগ করা হয়েছে, বিএনপি প্রার্থীর স্ত্রী ৫১২ কোটি টাকার ঋণখেলাপী এবং তার ছেলে ৪২ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখেছেন, যা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ১০ ফেব্রুয়ারি এক ভিডিও বার্তায় গোলাম মো. সিরাজ দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী ও পুত্র পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং তারা আমার ওপর নির্ভরশীল নন। ফলে তাদের কোনো আর্থিক দায় আমার ওপর বর্তায় না। এছাড়া তারা কেউই খেলাপী নন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় জামায়াত প্রার্থী কোনো আপত্তি না তুলে এখন ভোটের ঠিক আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও শেরপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আব্দুল্লাহ আল মোস্তাফিধ নাসিম ১১ ফেব্রুয়ারি পাল্টা ভিডিও বার্তায় বলেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতেই আমাদের প্রার্থী উচ্চ আদালতে গেছেন। আমরা কোনো অপপ্রচার চালাচ্ছি না, বরং আইনি পন্থায় লড়ছি। আদালতের রায় আমরা মাথা পেতে নেব।” তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থী জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন।
এদিকে প্রধান দুই প্রার্থীর এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সাধারণ ভোটারদের মাঝে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মীর মাহমুদুর রহমান বলেন, “দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে যে ধরণের উত্তেজনা বিরাজ করছে, তাতে ভোটের দিন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সবার সংযত হওয়া প্রয়োজন।”
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চললেও এখন পর্যন্ত ব্যালট পেপারসহ ভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে আদালতের নির্দেশনার দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট সকলে।
এসআর