আসছে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জেন জি–নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই প্রথম জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন। ২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকায় ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং ভারতে পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে এই আন্দোলন তরুণদের শক্তির প্রতীক হয়ে ওঠে।
টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার শাসনের অবসানকে অনেকেই স্বাগত জানান। আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্র মির্জা শাকিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘এই বিপ্লব দেখিয়েছে জেন জি কী করতে পারে।’ তবে যাদের হাত ধরে এই পরিবর্তন এসেছে, নির্বাচনের মাঠে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
শেখ হাসিনা অনুপস্থিত থাকলেও ‘প্রথাগত ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বলয়’ আবারও সামনে চলে এসেছে। নির্বাচনে এগিয়ে আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে ভোটের দৌড়ে সবাইকে ছাপিয়ে ফ্রন্টরানার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন দমন-পীড়নের শিকার ধর্মভিত্তিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও জোরালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে হিমশিম খাচ্ছে। নিরাপত্তা ও আসন নিশ্চিত করতে তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছে, যা অনেক আন্দোলনকারীকে হতাশ করেছে। শিক্ষার্থী নাজিফা জান্নাত বলেন, ‘সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তির স্বপ্ন দেখানো দলটি এমন একটি দলের সঙ্গে জোট করেছে, যারা একজন নারী প্রার্থীও দেয়নি-এটা বিশ্বাসঘাতকতা।’
এদিকে সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের ওপর বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমালোচনার মুখে পড়েছে।
তবুও অনেকের কাছে এই নির্বাচন এক দশকের বেশি সময় পর প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের আশা জাগাচ্ছে। সাবেক আন্দোলনকারী শাকিল বলেন, ‘এই নির্বাচন নতুন কিছু আনতে পারে। আমরা সেই প্রত্যাশাই অধীর হয়ে আছি।
এফএস