উল্লাপাড়ার উধুনিয়া ও গজাইল বাজারে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ, একাধিক দোকানে হামলা ও লুটপাটের দাবি। বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার ভোররাত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের গজাইল বাজার ও উধুনিয়া বাজারে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় দোকান ভাঙচুর, লুটপাট ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ অভিযোগ করেন, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) ভোররাতে একদল দুর্বৃত্ত গজাইল বাজারে তার দোকানে হামলা চালায়। এতে দোকানের মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা দোকানে থাকা প্রায় ১ হাজার বস্তা চাল, নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা, দুটি মোটরসাইকেল ভাংচুর, একটি মনিটর এবং হিসাবের খাতা নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীর পরাজয়ের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে একটি মিছিল থেকে হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, রেজাউল করিম, ইউনিয়ন আমীর আব্দুল আলিম সরদার, আশরাফ আলী প্রামাণিক, জামায়াতের রুকন আলামিন মণ্ডল ও মজিদ খন্দকারসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে একই এলাকার বিএনপি কর্মী ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর ভোটকেন্দ্রের এজেন্ট আমিনা খাতুন অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করার পর তাকে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাকে না পেয়ে তার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে উধুনিয়া বাজারের মোল্লা স্টোরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। দোকানটির মালিক আব্দুল বলেন, স্থানীয় যুবলীগ নেতা এরশাদ এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াতের কর্মী আব্দুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে দোকানের সিসি ক্যামেরা ভেঙে মালামাল লুটপাট করা হয়।
তিনি দাবি করেন, সদ্য জামায়াতে যোগদান করা যুবলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস ও এরশাদ আলী এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন।এছাড়াও উধুনিয়া বাজারে বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও তিনটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে উল্লাপাড়া মডেল থানায় যুবদলের নেতা আব্দুর লতিফ, অন্যদিকে বিএনপি নেতা আব্দুল আলিম মামলা করছে।
এ বিষয়ে উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আব্দুল আলিম সরদার বলেন প্রথমে বিএনপির লোকজন তাদের অফিস বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। তাদের এই অপকর্ম থেকে বাঁচতে নাটক সাজিয়ে। তারা এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত না বলে তিনি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাকিউল আযম বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেয়েছি প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এবি