এইমাত্র
  • কুমিল্লায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, একই পরিবারে নারী-শিশুসহ দগ্ধ ৪
  • ঢাবির প্রশ্নে হাদির উক্তি ‘জান দেব, তবু জুলাই দেব না’
  • সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানালেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী
  • টেকনাফ পাহাড়ে রহস্যময় আগুন, বনভূমি পুড়ে ছাই
  • ঘুষ-পার্সেন্টেজ বন্ধের আহ্বান জানালেন এমপি ফখরুল ইসলাম
  • শিক্ষানুরাগী আফজাল হোসেন সরকারের ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
  • কুবির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি শুরু আজ, ক্লাস শুরু ১২ এপ্রিল
  • বাঁশখালীতে কুপিয়ে লবণ লুটের পর ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজির মামলা
  • ৫ আগস্টের পরের মামলাগুলো যাচাইয়ের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করছে ইইউ
  • আজ মঙ্গলবার, ১১ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজা, দুই দিন পর বাবার মৃত্যু

    শাহীন মাহমুদ রাসেল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (কক্সবাজার) প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৬ এএম
    শাহীন মাহমুদ রাসেল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (কক্সবাজার) প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৬ এএম

    হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজা, দুই দিন পর বাবার মৃত্যু

    শাহীন মাহমুদ রাসেল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (কক্সবাজার) প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৬ এএম


    রাজনৈতিক কোনো পদবী না থাকলেও একের পর এক মামলায় দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে কারাভোগ করেছেন কক্সবাজারের রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির দুই সহোদর ফরিদুল আলম (৪৩) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৮)। এ সময়ে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে মারা গেছেন তাদের বাবা-মা।


    গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মারা যান তাদের মা মোস্তফা বেগম। মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান দুই ভাই। পুলিশি পাহারায়, হাতে হাতকড়া পরেই তারা মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নেন। জানাজা শেষে আবার তাদের কারাগারে নেওয়া হয়।


    এর দুই দিনের মাথায় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে মারা যান তাদের বাবা নুর আহমদ (৯০)। মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ- সংলগ্ন মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই মাঠে গত শনিবার তাদের মায়ের জানাজাও হয়েছিল। সেদিনই বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানিয়েছিলেন দুই ভাই।


    সেদিন মায়ের জানাজায় দুই ভাইকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। হাতকড়া পরা অবস্থায় মায়ের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার ভেঙে পড়ছিলেন তারা। কখনো কবরের পাশে নীরবে মাথা নিচু করে, কখনো স্বজনদের বুকে মুখ গুঁজে কান্নায় ভেঙে পড়েন। উপস্থিত অনেকের চোখও ভিজে ওঠে সেই দৃশ্যে।


    তাদের দাবি, তারা ষড়যন্ত্রের শিকার। একের পর এক ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে তাদের কারাগারে রাখা হয়েছে। এতে শুধু দুই ভাই নন, পুরো পরিবারই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তাদের ভাষ্য, মামলার বোঝা আর কারাবাসের কষ্টে বাবা-মায়ের শেষ সময়টুকুতেও পাশে থাকতে পারেননি- এই আক্ষেপই এখন তাদের সবচেয়ে বড় কষ্ট।


    পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ কিংবা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের কমিটিতে নাম না থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একের পর এক মামলা দিয়ে দুই সহোদরকে কারাগারে রাখা হয়েছে। বার্ধক্যের পাশাপাশি ছেলেদের কারাবাসের দুশ্চিন্তায় বাবা-মায়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে বলে দাবি তাদের।


    স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় আড়াই মাস আগে খুঁনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় প্রথমে ফরিদুল ও ইসমাইলকে আটক করে পুলিশ কারাগারে পাঠায়। ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগারে থাকা অবস্থায় দক্ষিণ মিঠাছড়ির আরেকটি মামলায় তাদের পুনরায় আটক দেখানো হয়। সেখান থেকেও জামিন মেলার পর রামুর বিএনপি নেতা মাহিন চৌধুরীর দায়ের করা আরেকটি মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে ধারাবাহিক মামলায় জড়িয়ে টানা আড়াই মাস ধরে কারাভোগ করছেন দুই ভাই।


    স্থানীয়দের দাবি, ফরিদুল ও ইসমাইল দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তবে তারা কোনো কমিটির পদধারী নন। পূর্বশত্রুতার জেরে একটি পক্ষ একের পর এক মামলায় তাদের নাম যুক্ত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


    এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রামু উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ হোসেন আকাশ। মায়ের জানাজায় হাতকড়া পরা অবস্থায় দুই ভাইয়ের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আমার ইউনিয়নে এত বড় আওয়ামী নেতা ছিল, জানা ছিল না। কী নিষ্ঠুর রাজনীতি। দ্বিতীয় রমজানে মা’কে হারিয়ে জেলখানা থেকে প্যারোলে মুক্তি নিয়েছিল দুই সহোদর। আজ পঞ্চম রমজানে ইফতারের পর বাবাকেও হারাল। মানবিকতা হোক প্রতিহিংসার রাজনীতির ঊর্ধ্বে।’


    ইসমাইলের স্ত্রী কুলছুমা বেগম বলেন, তার স্বামী নির্দোষ এবং কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। অহেতুক মামলায় জড়িয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘বাবা-মা দুজনই মারা গেলেন। কিন্তু সন্তান হিসেবে শেষ সেবাটুকুও করতে পারলেন না।’


    এদিকে তিন দিনের ব্যবধানে মা-বাবাকে হারানোর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই ঘটনাটিকে অমানবিক ও নিষ্ঠুর রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেউ লিখেছেন, বিচারিক প্রক্রিয়া থাকতেই পারে, কিন্তু মানবিকতার জায়গাটি এমন নির্মম হতে পারে না। কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ধারাবাহিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে রাখার প্রক্রিয়া কতটা ন্যায়সংগত। হাতকড়া পরা অবস্থায় মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সহানুভূতি ও ক্ষোভ- দুই অনুভূতিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নানা মন্তব্যে।

    এবি 

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…