ফাগুন মাসে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির দেখা পেয়েছে কিশোরগঞ্জবাসী। ধুয়ে গেল বৃক্ষরাজির গায়ে, লতা-পাতা ও টিনের চালায় জমে থাকা ধুলাবালির আস্তরণ। এতে প্রাণ ফিরেছে প্রকৃতিতে। স্বস্তি মিলেছে জনমনে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১ টা ১২ মিনিটে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে প্রশান্তির এক পশলা বৃষ্টি দেখা মিলে। তাও খুব সামান্য। তবে বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে যেমন প্রকৃতিতে অন্যদিকে কৃষি ফসলের জন্যেও আশীর্বাদ হয়েছে স্বল্প সময়ের এই বৃষ্টি।
এদিকে, গুড়িগুড়ি এ বৃষ্টি ফসলের জন্য উপকারী হবে বলে জানান সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভূবিরচর গ্রামের কৃষক রতম মিয়া। তিনি জানান, ফসল করে সেচের জন্য অর্থ ব্যয় করছি। এই মৌসুমে সামান্যতম বৃষ্টি ফসলের জন্য খানিকটা হলেও উপকারে এসেছে, এই বৃষ্টি যেন তার কাছে আশীর্বাদ হয়ে গেছে।
সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আলাল মিয়া জানান, সাময়িক বৃষ্টি হলেও এর উপকারিতা অনেক বেশি। সম্পূর্ণ গাছটি ভিজলে ফসলের জন্য উপকারী। এই মওসুমে সেচ লাগে প্রতিনিয়ত। এর মাঝে বৃষ্টিটি কাজে লাগছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান জানান, এ সময়ের বৃষ্টি সকল ফসলের জন্যে উপকারী বিশেষ করে বোরোধান চাষের জন্য বেশ উপকারী। ধানচাষে পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন হওয়ায় এই প্রাকৃতিক পানির বিকল্প নেই। ফলে কৃষকের ফসলের জমিতে সেচের পানির পরিমাণ কিছুটা কম লাগবে।
নিকলী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মাসুম জানান, এই বৃষ্টি আজ বা কাল পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই।
উল্লেখ্য, এ বছর জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে হাওর অঞ্চলেই আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে।
ইখা