এইমাত্র
  • হাসপাতাল থেকে দালাল চক্র নির্মূল করা হবে: স্বাস্থ্যসচিব
  • চার সপ্তাহ সময় বেঁধে দেয়া ট্রাম্পই এখন বলছেন ‘যুদ্ধ’ দীর্ঘস্থায়ী হবে
  • উত্তরায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, শিশুসহ ১০ জন দগ্ধ
  • সেনাবাহিনীর নার্সিং সার্ভিসে নিয়োগ, বিবাহিতরাও পাচ্ছেন সুযোগ
  • হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল-গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান-চীন আলোচনা
  • ইরানের পর কিউবা এখন ‘সময়ের ব্যাপার মাত্র’: ট্রাম্প
  • বাহরাইনে হোটেলে ড্রোন হামলা, মার্কিন সেনারা সেখানে ছিলেন ধারণা করা হচ্ছে
  • সৌদি আরবকে ধন্যবাদ দিলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত
  • জামালপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা করল আইনজীবি স্বামী
  • আইভী ও বদির জামিন স্থগিত
  • আজ শনিবার, ২২ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ৭ মার্চ, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসে রেশনিং, বন্ধ সিইউএফএল-কাফকোর উৎপাদন

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

    দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাসে রেশনিং, বন্ধ সিইউএফএল-কাফকোর উৎপাদন

    গাজী গোফরান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) প্রকাশ: ৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রত্যক্ষ অভিঘাত পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হঠাৎ সৃষ্ট অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতামূলক রেশনিং শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এলএনজি আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গ্যাস সাশ্রয়ের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের দুটি প্রধান সার কারখানা, Chittagong Urea Fertilizer Limited (সিইউএফএল) এবং বহুজাতিক Karnaphuli Fertilizer Company Limited (কাফকো)-এর সার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়েছে, বিশেষ করে ডিজেলের ক্ষেত্রে ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করে থাকে। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

    নৌপরিবহন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীর দুই প্রান্তে প্রায় এক হাজারের মতো তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজ আটকা পড়ে আছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বন্দরে তেল ও গ্যাস বোঝাই করে অপেক্ষমাণ ট্যাংকারের সংখ্যাও কয়েকশ’। একইসঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্যবাহী জাহাজও উপসাগরীয় দেশগুলোর বন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ চেইনে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এই বৈশ্বিক পরিস্থিতির বড় ধাক্কা লেগেছে আমদানি নির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। বিশেষ করে গ্যাস খাতে পরিস্থিতি দ্রুত উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আংশিকভাবে স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ থাকলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলের গ্যাস ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এলএনজি জাহাজ সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে এই অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

    সূত্র জানায়, আগামী ১১ মার্চ প্রায় তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি নিয়ে একটি জাহাজ মহেশখালীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর পরপরই আরও পাঁচটি এলএনজি কার্গো জাহাজ বাংলাদেশে আসার সময়সূচি ছিল। তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব জাহাজের আগমন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই পাঁচটি জাহাজে প্রায় ১৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস রয়েছে। কিন্তু নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এগুলো বাংলাদেশে পৌঁছাবে কি না, কিংবা পৌঁছাতে কত সময় লাগবে, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

    এই পরিস্থিতিতে গ্যাস সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সরকার জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে চট্টগ্রামের সিইউএফএল ও কাফকো কারখানার সার উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এই দুই কারখানায় গ্যাস শুধু জ্বালানি হিসেবেই নয়, উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। গ্যাস থেকেই মূলত ইউরিয়া সার উৎপাদন করা হয়। প্রতিদিন এই দুই কারখানা মিলিয়ে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করা হয়। উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ার ফলে প্রতিদিন সমপরিমাণ গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে, যা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরবরাহ করা হচ্ছে।

    চট্টগ্রামে গতকাল প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে, যা শিল্প, বাণিজ্যিক এবং আবাসিক খাতে বিতরণ করা হচ্ছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-এর একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সময়ের কন্ঠস্বর-কে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাস ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সার কারখানা বন্ধ রাখার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব হচ্ছে এবং আপাতত বিদ্যুৎ উৎপাদন, গৃহস্থালি ব্যবহার ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ১১ মার্চের পর নির্ধারিত এলএনজি জাহাজটি সময়মতো না পৌঁছালে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং তখন গ্যাসনির্ভর অনেক খাতই বড় সংকটে পড়বে।

    অন্যদিকে জ্বালানি তেল সরবরাহেও অনিশ্চয়তার ছায়া দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল বহনকারী এমটি নর্ডিক পলাঙ নামের একটি জাহাজ বর্তমানে সৌদি আরবে আটকা পড়ে রয়েছে। এছাড়া আরেকটি তেলবাহী জাহাজের আগামী ২২ মার্চ আবুধাবী থেকে বাংলাদেশে যাত্রা করার কথা ছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এসব জাহাজের বাংলাদেশে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিপিসি ইতোমধ্যে ডিজেল সরবরাহে রেশনিং শুরু করেছে। বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন তিনটি তেল বিপণন কোম্পানি ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ না দিয়ে সীমিত বরাদ্দ দিচ্ছে। কেউ যদি দুই ভাউজার ডিজেল চায়, তাকে দেওয়া হচ্ছে একটি; আবার পাঁচ ভাউজারের চাহিদা থাকলে দেওয়া হচ্ছে দুই ভাউজার। তবে আপাতত পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এই স্বাভাবিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ গ্যাসনির্ভর হওয়ায় এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে। এতে শিল্প উৎপাদন, কৃষি সেচ এবং নগরজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকে, ফলে সেই সময়ের মধ্যে যদি জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তাহলে বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

    এদিকে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কৃষি খাতেও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামের সিইউএফএল ও কাফকো কারখানা দুটি প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদন করতে সক্ষম। এই দুই কারখানার উৎপাদন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে দেশে সার সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে এবং আসন্ন কৃষি মৌসুমে কৃষকদের জন্য নতুন সংকট দেখা দিতে পারে।

    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…