মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটায় বাধা দেওয়ায় এক কৃষকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা’ চুরির অভিযোগ দিয়ে হয়রানির খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার কানাইনগর গ্রামের দুলাল পালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে সেচ মেশিন (শেলো মেশিন) চুরির এই অভিযোগটি করেছেন পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চুরির অভিযোগটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিবেশী ওহাব মিয়া বলেন, “দুলাল শুরু থেকেই এখানকার মাটি কাটতে নিষেধ করেছিলেন। প্রশাসন মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ করা হয়েছে।” স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল হোসেনের দাবি, যারা মাটি কাটছিলেন তারা নিজেরাই মেশিন সরিয়ে এখন মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর গ্রামের আনসার দেওয়ানের ছেলে রাসেল মিয়া তিন ফসলি জমির মাটি কিনে ভেকু দিয়ে কাটা শুরু করেন। মাটি বহনকারী ট্রাক চলাচলের কারণে দুলাল পালের জমি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে তিনি মাটি কাটায় বাধা দেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাটি কাটা বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাসেল মিয়া কানাইনগর গ্রামের দুলাল পাল (৫০), নাছির পাল (৫৫), কারিম মোল্লা (২৮), পান্নু মোল্লা (৫০) ও রবিন (৩২)-এর বিরুদ্ধে থানায় চুরির অভিযোগ দেন।
ভুক্তভোগী দুলাল পাল অভিযোগ করেন, “মাটি কাটতে বাধা দেওয়ায় আমাকে রামদা দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ হওয়ায় রাসেল আমাদের বিরুদ্ধে চুরির নাটক সাজিয়ে হয়রানি করছে।”
তবে অভিযোগকারী রাসেল মিয়া চুরির দাবি বজায় রেখে বলেন, “প্রশাসন নয়, নায়েব এসে মাটি কাটা বন্ধ করেছেন। আমার সেচ দেওয়ার মেশিন দুলাল গংরাই চুরি করেছে।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহিদা বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়ে অভিযুক্তরা চুরি করেছে এমন কোনো সাক্ষী বা প্রমাণ পাইনি। তবে রবিন নামের এক তরুণ আমাকে ফোন করে জানিয়েছে যে মেশিনটি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে বাদী আমাকে এখনো আনুষ্ঠানিক কিছু জানাননি।”
এনআই