পিরোজপুরের কাউখালীতে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ ও অল্প খরচে অধিক মুনাফার আশায় দিন দিন উপজেলায় সরিষার আবাদ বাড়ছে। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ভালো ফলন হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ এখন দিগন্ত জোড়া হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ যেন হলুদের চাদরে ঢাকা পড়েছে। সরিষার এই চোখ জুড়ানো দৃশ্য যেমন প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে, তেমনি ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ৬৮ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘বিনা সরিষা-৯’ ও ‘বিনা সরিষা-১১’ জাতের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেউন্দ্রিয়া গ্রামের কৃষক মো. মামুন জানান, বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেশি হওয়ায় নিজেদের চাহিদা মেটানো ও লাভের উদ্দেশ্যে তিনি ৩৩ শতাংশ জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তিনি আশাতীত মুনাফার আশা করছেন। হোগলা গ্রামের কৃষক লাকি হাওলাদার বলেন, “গত বছরের তুলনায় এ বছর আবহওয়া অনেক ভালো ছিল, যার ফলে সরিষার দানা পুষ্ট হয়েছে। আশা করছি গতবারের চেয়ে বেশি ফলন পাব।”
কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস জানান, এ বছর উপজেলায় মোট ৬৬ হেক্টর জমিতে আধুনিক জাতের সরিষার আবাদ হয়েছে।
তিনি বলেন, “সরিষার মোট উৎপাদন প্রায় ১২০ মেট্রিক টন হবে বলে আমরা আশা করছি, যা থেকে প্রায় ৫০ মেট্রিক টন তেল উৎপাদন সম্ভব। ভোজ্যতেলের আমদানী নির্ভরতা কমাতে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি।”
এনআই