গাইবান্ধায় হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা। জেলার অনেক ফিলিং স্টেশনে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি। তেলের আশায় চালকরা এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন। যেসব স্টেশনে সামান্য মজুত আছে, সেখানে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরবরাহ না থাকায় গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত তিন দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহে ঘাটতি থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া থেকে আসা বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দুটি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। তেল না পেলে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে ফিরব কীভাবে তা বুঝতে পারছি না।” সিরাজুল ইসলাম নামে আরেক চালক বলেন, “পবিত্র রমজান মাসে তেলের জন্য এভাবে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘোরাঘুরি করা খুবই কষ্টদায়ক।” মেহেদুল ইসলাম মিথুন নামে এক যুবক দ্রুত এই সংকট সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
শহরের একটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, গত দুই দিন ধরে চাহিদা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গ্রাহকদেরও চাহিদামতো তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পাম্পে মজুত শূন্য হয়ে যাওয়ায় সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে জেলার পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এনআই