এইমাত্র
  • পাকুন্দিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কাঠমিস্ত্রীর মৃত্যু
  • মুন্সিগঞ্জে চুরির অভিযোগে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
  • খামেনি পরবর্তী যে কোনো উত্তরসূরিকে নির্মূল করার অঙ্গীকার ইসরায়েলের
  • পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে: পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী
  • চাঁদাবাজ-অস্ত্রধারীদের তালিকা করে শিগগিরই সারাদেশে অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • সরকারি হাসপাতাল থেকে দালাল নির্মূলের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
  • মাধবপুরে রঘুনন্দন ছড়া থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ
  • ভালুকা জুড়ে আমের মুকুলের ঘ্রাণ, মধুমাসের আগমনী বার্তা
  • পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভালো আলোচনা হয়েছে: পল কাপুর
  • মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: শাহজালালে আরও ২৫ ফ্লাইট বাতিল
  • আজ বুধবার, ২০ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ৪ মার্চ, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    গাজীপুরে আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে গড়মিল, প্রশ্নের মুখে কোনাবাড়ী ক্লিনিক

    মোত্তাসিম সিকদার রাজীব, কাশিমপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
    মোত্তাসিম সিকদার রাজীব, কাশিমপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

    গাজীপুরে আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে গড়মিল, প্রশ্নের মুখে কোনাবাড়ী ক্লিনিক

    মোত্তাসিম সিকদার রাজীব, কাশিমপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

    গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান কোনাবাড়ী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে গড়মিল ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে।

    একই রোগীর গর্ভের সন্তানের ওজন নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন রিপোর্ট এবং ডিএনসি সঠিকভাবে না করার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    জানা যায়, ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নিলিমাকে নিয়ে তার স্বামী সোলায়মান কবির গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কোনাবাড়ী ক্লিনিকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে যান। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে রিপোর্টে গর্ভের শিশুর ওজন ১৪০০ গ্রাম উল্লেখ করা হয়।

    এমনকি রিপোর্টটি প্রস্তুত করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রাকিব হোসেন। কম ওজন দেখিয়ে নিলিমাকে ইনজেকশন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

    কিন্তু এর ১০ দিন আগে একই এলাকার কোনাবাড়ী পপুলার হাসপাতাল-এ আল্ট্রাসনোগ্রাম করালে শিশুর ওজন ছিল ১৮০০ গ্রাম। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সোলায়মান কবির তাৎক্ষণিকভাবে পুনরায় কোনাবাড়ী পপুলার হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। সেখানে রিপোর্টে শিশুর ওজন আসে ২৩০০ গ্রাম।

    একই সময়ে পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে এমন বড় ধরনের পার্থক্য দেখা দেওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন নিলিমা ও তার পরিবার।

    এবিষয়ে প্রসূতির স্বামী সোলাইমান কবির বলেন, এক জায়গায় ১৪০০ গ্রাম, আরেক জায়গায় ২৩০০ গ্রাম এত পার্থক্য কীভাবে সম্ভব? ভুল চিকিৎসা হলে আমার স্ত্রী ও সন্তানের বড় ক্ষতি হয়ে যেত।

    অপরদিকে ভুক্তভোগী প্রসূতি নিলিমা বলেন, আমরা খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। রিপোর্টের এমন গরমিল আমাদের আতঙ্কিত করেছে।

    অভিযোগের বিষয়ে কোনাবাড়ী ক্লিনিকের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, সম্ভবত আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্টে ভুল হয়েছে।

    আর অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রাকিব হোসেন ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    এদিকে প্রায় তিন মাস আগে একই ক্লিনিকে ডিএনসি করান জান্নাতুল নাহার রিতা। তার অভিযোগ, সঠিকভাবে ডিএনসি না করায় তিনি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। বর্তমানে অন্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

    এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী জান্নাতুল নাহার রিতা বলেন, ভুল চিকিৎসার কারণে আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়েছে। এখন অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

    এবিষয়ে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মামুনুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লিনিকটির চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। তারা অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    অপরদিকে সচেতন মহল বলছেন, আল্ট্রাসনোগ্রামের মতো স্পর্শকাতর পরীক্ষায় এমন গাফিলতি মা ও অনাগত সন্তানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


    এসআর

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…