নাটোরের বড়াইগ্রামে আদালতে মামলাধীন একটি বাড়ির তালা ভেঙে প্রতিপক্ষরা দখল করে নেওয়ায় গত দুই দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন ১১০ বছর বয়সী বৃদ্ধা আমেনা বেগম। গত সোমবার বৃদ্ধা ও তাঁর মেয়েকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগে এই দখলের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বুধবার (৪ মার্চ) থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
ভূক্তভোগী আমেনা বেগম উপজেলার মহানন্দাগাছা গ্রামের মৃত সফর উদ্দিনের স্ত্রী। সরেজমিনে বুধবার দুপুরে মহানন্দাগাছা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির মূল ফটকের সামনে একটি পাটিতে শুয়ে আছেন শতবর্ষী আমেনা বেগম। পাশে বসে আছেন তাঁর ষাটোর্ধ্ব মেয়ে মনোয়ারা বেগম। বাড়ির প্রধান দরজাটি ভেতর থেকে আটকানো এবং ভেতরে দখলদারদের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। বৃদ্ধার এই করুণ দৃশ্য দেখতে ভিড় জমিয়েছেন গ্রামবাসী।
স্থানীয়রা জানান, আমেনা বেগমের মেয়ে মনোয়ারা বেগম নিঃসন্তান হওয়ায় সাথী আক্তার লিপি নামের এক শিশুকে দত্তক নেন। লালন-পালন শেষে তাঁকে পাবনার চাটমোহরে বিয়ে দেন। পরবর্তীতে মনোয়ারা তাঁর স্বামীর জমি বিক্রির টাকায় মায়ের ভিটায় একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন এবং মাকে নিয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেন।
অভিযোগ উঠেছে, বছরখানেক আগে নাতনি লিপি নানিকে ডাক্তার দেখানোর অজুহাতে বনপাড়ায় নিয়ে কৌশলে বাড়ির জমি নিজ নামে রেজিস্ট্রি করে নেন। পরে লিপি সেই জমি একই গ্রামের আব্বাস আলীর তিন ছেলে রেজাউল করিম, নাঈম ও নাহিদের কাছে বিক্রি করে অন্যত্র চলে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে আমেনা বেগম আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকলেও গত সোমবার তাঁরা হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগে প্রতিপক্ষরা তালা ভেঙে বাড়িটি দখলে নেয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনোয়ারা বেগম বলেন, “আমি মাকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে দেখি তারা আমাদের বাড়িঘর দখল করে নিয়েছে। অথচ বাড়ি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। এই অসহায় বৃদ্ধা মাকে নিয়ে এখন আমি কোথায় যাব?”
তবে অভিযুক্ত নাঈম হোসেন বলেন, “আমরা তিন ভাই টাকা দিয়ে বাড়িসহ জমি কিনেছি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা দখল না ছাড়ায় আমরা নিজেরাই দখল নিতে বাধ্য হয়েছি।”
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এনআই