গণ-অভ্যুত্থানের ১৭ মাস পর টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সাবেক এমপি খান আহমেদ শুভসহ ৪৪ জনের নামে দ্রুত বিচার আইনে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী সুজন মিয়া। এ মামলা থেকে বাদ পড়েননি টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল।
মামলা সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ভানুয়াবহ গ্রামের হাছান আলীর ছেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী দাবি করা মো. সুজন মিয়া (৩২) বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খানের আদালতে হাজির হয়ে আইন শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন ২০০২ এর ৪/৫ ধারা অনুযায়ী মামলার আবেদন করেন। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে অভিযোগকারী কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগটি এফ.আই.আর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।
মামলায় প্রধান আসামি টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আহমেদ শুভ। এ ছাড়া মির্জাপুর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ব্যরিস্টার তাহরীম হোসেন সীমান্তসহ ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাসাইল-সখিপুর আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে ৮ নম্বর আসামি রাসেলকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি ও ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ব্যবসায়িক পার্টনার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন নিপীড়নের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে উল্লেখিত নামের আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১৫০ জন সন্ত্রাসী লাঠি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, পিস্তল, সর্টগান, রিভল বার নিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে আহত করে। এতে বাদী সুজন মিয়া আহত হয়। এ ঘটনায় তিনি টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলি আদালতে এই মামলা করেন।
সালাউদ্দিন আলমগীম রাসেল জানান, তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। মামলার বাদী সুজন মিয়া প্রকৃতপক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো নেতা নন, তিনি মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক।
মামলার বাদী সুজন মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি, তবে নথি এখনও হাতে পাইনি।’
ইখা