আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোঃ নুর হাকিম নামের একজনের মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ ওঠেছে, ‘আওয়ামী দোসর’ মো: নুর হাকিম নিজদল বাদ দিয়ে বাংলাদেশ কংগ্রেসের পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।
মো: নুর হাকিম মনোনয়ন পত্র দাখিল করার পর থেকে চুয়াডাঙ্গা রাজনৈতিক অঙ্গনে ও জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দর্শনা থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাসেল আহমেদ লিওন সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নুর হাকিমকে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে তাকে রাজনৈতিকভাবে প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এর পরপরই চুয়াডাঙ্গা ২ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী মো: নুর হাকিম চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ওই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং এতে তার নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে বলে তার সম্পাদনা ও প্রকাশনায় প্রকাশিত দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ দায়েরের পর নুর হাকিম তার মালিকানাধীন পত্রিকায় ছাত্রদল নেতা রাসেল আহমেদ লিওনকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সংবাদ প্রকাশের পর দর্শনা পৌরসভাসহ পুরো চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ছাত্রদল, বিএনপি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও জুলাই যোদ্ধাদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ফেসবুক পোস্টে কোথাও হুমকি বা সহিংস বক্তব্য ছিল না। বরং সেটি ছিল রাজনৈতিক মতামত ও অবস্থান প্রকাশ। তারা আরও দাবি করেন, নুর হাকিম দীর্ঘদিন ধরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ওই সময় তিনি নিয়মিত গণসংযোগ করেছেন, বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, যা এলাকাবাসীর কাছে অজানা নয়।
দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেটসহ স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক নেতা বলেন, এটা শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাই নয়, সাধারণ মানুষও জানে। সুতরাং ছাত্রদল নেতা রাসেল হোসেন লিওনের ফেসবুক পোস্ট বাস্তবতার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এদিকে, জুলাই যোদ্ধা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা আহ্বায়ক তানভীর অনিকও এ ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ছাত্রদল নেতা রাসেলের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে সন্ত্রাসী আখ্যা দেওয়ার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। চুয়াডাঙ্গা–২ আসনের এমপি পদে মনোনয়ন দাখিলকারী নুর হাকিমের বিরুদ্ধে রাসেল ফেসবুকে যে পোস্টটি করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ সত্য। তিনি আরও বলেন, নিজের সংবাদপত্রের ক্ষমতা ব্যবহার করে একজন ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা নুর হাকিমের পুরনো ফ্যাসিবাদী চরিত্রকেই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের অভিমত, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করা। তাদের দাবি, তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে ছাত্রদল নেতা রাসেল আহমেদ লিওনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।
সব মিলিয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে নুর হাকিমকে ঘিরে এই বিতর্ক নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ইখা