উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে শীতের তীব্রতা আবারও বেড়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ, যা কনকনে শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। সূর্যের দেখা না মেলায় সকালজুড়ে হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জনজীবন। সড়কগুলোতে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ছিল ধীরগতির। হাটবাজার ও খোলা স্থানে মানুষের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক কম।
খানসামা উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তারা ভারী শীতবস্ত্র পরে চলাফেরা করছেন। টানা শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষক, রিকশাচালক ও বয়স্ক মানুষ।
খানসামা উপজেলার গোবিপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভোরের ঠান্ডা এতটাই বেশি থাকে যে শরীর কাঁপতে থাকে। কাজের জায়গায় পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়।
একই উপজেলার রায়পাড়া গ্রামের কৃষক গৌতম রায় জানান, কুয়াশা আর ঠান্ডার কারণে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফসলের পরিচর্যাতেও সমস্যা হচ্ছে।
আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি নিয়ে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, উত্তরাঞ্চলে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় শীতের তীব্রতা বজায় রয়েছে। ভোর ও রাতের দিকে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন,গত এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা খুব কম মিলছে। এ কারণে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও শীতের অনুভূতি কমছে না।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আকাশে মেঘের আধিক্য, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে উত্তরাঞ্চলে শীত পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এতে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষি ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ইখা