এইমাত্র
  • ৭ ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ফেরি চলাচল শুরু
  • নাইজেরিয়া গ্রামে ভয়াবহ হামলা, নিহত অন্তত ৩০
  • শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রিতে
  • দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়া যাচ্ছেন তারেক রহমান, সফরসূচিতে রংপুর-সিলেট
  • ভোরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত
  • দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক
  • ৩৪ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা, লাখো মুসল্লির ঢল
  • নতুন বছরের শুরুতেই বাড়ল স্বর্ণের দাম
  • নাইজেরিয়ায় বাজারে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত অন্তত ৩০
  • কুয়েত থেকে ৪০ হাজার প্রবাসী বিতাড়িত
  • আজ সোমবার, ২২ পৌষ, ১৪৩২ | ৫ জানুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    খানসামা হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

    ফারুক আহম্মেদ, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
    ফারুক আহম্মেদ, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

    খানসামা হাসপাতালে নেই জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

    ফারুক আহম্মেদ, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:১০ পিএম

    দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গত এক বছরের বেশি সময় ধরে জলাতঙ্ক (রেবিস) রোগ প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সরকারি হাসপাতালসহ বেসরকারি পর্যায়েও ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ থাকায় কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য পশুর কামড়ে আহত রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    ভুক্তভোগী এক অভিভাবক বলেন, আমার সন্তানকে কুকুরে কামড়েছে। দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জানানো হয় ভ্যাকসিন নেই। পরে বিভিন্ন ফার্মেসিতে খুঁজেও পাইনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা ভীষণ আতঙ্কে আছি।

    আরেক ভুক্তভোগী জানান,জলাতঙ্ক যে প্রাণঘাতী রোগ, তা সবাই জানে। কিন্তু সময়মতো ভ্যাকসিন না পেলে জীবন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।

    ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীরাও ভ্যাকসিন সংকটের কথা স্বীকার করছেন। খানসামা উপজেলার ওষুধ ব্যবসায়ী শাহরিয়ার পারভেজ জানান,গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের কোনো সাপ্লাই নেই। কোম্পানি থেকেই সরবরাহ বন্ধ। এ কারণে সাধারণ মানুষের কিন্তু বড় সমস্যা হচ্ছে। অনেকেই দোকানে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন অনিয়মিত। কখনো অল্প পরিমাণে এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই পশুর কামড়ে আহত রোগীরা হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ দিনাজপুর শহরের বেসরকারি ক্লিনিক ও ফার্মেসির ওপর নির্ভর করছেন, যেখানে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

    চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ হলেও এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য—যদি সময়মতো ভ্যাকসিন গ্রহণ করা যায়। পশুর কামড়ের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভ্যাকসিন গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাকসিন সংকট চলতে থাকায় খানসামায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে।

    এ বিষয়ে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের এক বছর পার হয়ে গেছে। এই এক বছরের মধ্যে একবারের জন্যও জলাতঙ্ক রোগের কোনো ভ্যাকসিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাইনি। বিষয়টি নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    অন্যদিকে খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, আমি বিষয়টি জানি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আমাকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। আমি আশ্বস্ত করেছি, প্রয়োজন হলে উপজেলা পরিষদের ফান্ড থেকে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত খানসামা উপজেলায় পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সংকট চলতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

    এনআই

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…