অস্ত্রপচারের প্রায় সাড়ে ৪ বছর রোগীর পেট থেকে কাঁচি বের হয়েছে। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জে। ভুক্তভোগীর অবিযোগ, উল্লাপাড়া পৌর শহরে শ্যামলীপাড়া এলাকার কেয়া হসপিটাল অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টারে অপারেশনের পর রোগীর পেটে কাঁচি রেখেই ডাক্তার সেলাই করে দেন। পরবর্তী সময়ে গত ১১ ডিসেম্বর এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা অপারেশনের মাধ্যমে কাঁচি বের করেন। এ ব্যাপারে রবিবার (৪ জানুয়ারি) ভুক্তভোগীর স্বামী বাদী হয়ে ডাকযোগে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মাটিকোড়া গ্রামের প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. আল্পনা খাতুন ২০২১ সালের আগস্টে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। তখন থেকেই শুরু হয় পেটে ব্যথা। চলতে থাকে নানা ধরনের চিকিৎসা। গ্রামীণ ডাক্তারদের চিকিৎসায় কখনও ব্যথা কমে, আবার বাড়ে।
এভাবেই কেটে যায় সাড়ে ৪ বছর। একদিন ব্যথা মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায়। আল্পনাকে নেওয়া হয় খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে বের হয়ে আসে একটি কাঁচি।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) ভুক্তভোগীর স্বামী আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ডাকযোগে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০২১ সালে আমার স্ত্রীর পেটে দ্বিতীয় সন্তান আসে। ওই বছরের ১৩ আগস্ট আমাদের গ্রামের বনফুল নামে একজন মেয়ের মাধ্যমে আমার স্ত্রীকে কেয়া হসপিটালে নিয়ে যাই। দুপুরে ভর্তি করাই, বিকেলে সিজার হয়। বাচ্চাটা আসার কিছুক্ষণ পরেই ব্যথা শুরু হয়। তখন ওনারা বলেন, সেকেন্ড বেবির কারণে ব্যথা হচ্ছে। তারা ওষুধপত্র দিলে ব্যথা কমে যায়। তিন দিন পরে রিলিজ করে দেন।
এর কিছুদিন পর পর ব্যথা হতো, বমি হতো। আমরা গ্যাসের ব্যথা মনে করে গ্রাম্য ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিই। অনেকবার এভাবে ব্যথা কমানো হয়। একদিন ব্যথা অতিরিক্ত হয়ে গেলে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে পরিস্থিতি উন্নত না হওয়ায় আমরা এনায়েতপুরে নিয়ে যাই। এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা এক্সরে করার মাধ্যমে জানান পেটের ভেতরে কাঁচি রয়েছে। গত ১১ ডিসেম্বর অপারেশনের মাধ্যমে কাঁচি বের করেন চিকিৎসকরা।
মাটিকোঁড়া গ্রামের বনফুল জানান, ‘আমার মা দাই হওয়ার কারণে প্রসূতি রোগীরা আসেন আমাদের কাছে। ৫ বছর আগে আল্পনা খাতুনও এসেছিলেন। আমরা তাকে কেয়া হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে সিজারের মাধ্যমে তার বাচ্চা হয়। এখন দেখছি আল্পনার পেটে কাঁচি রেখেই ডাক্তার সেলাই করে দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে কেয়া হসপিটাল এন্ড কনসালটেন্ট সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ‘৫ বছর আগে সিজার হওয়া ওই রোগীর কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই।’
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ এখনও আমার হাতে আসেনি। অভিযোগ আসলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’
ইখা