ইরানে দুর্বল অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে সহিংসতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ঘটনায় গতকাল ইরানি কর্তৃপক্ষ দুজন নিহতের কথা স্বীকার করলেও অন্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে পৌঁছেছে।
বিক্ষোভের করণে রাজধানীর প্রধান বাজার এবং প্রধান শপিং সেন্টারগুলিতে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনী কাছাকাছি রাস্তায় দেখা গেছে।
সপ্তাহব্যাপী এ আন্দোলন ২০২২ সালের পর ইরানে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। সে বছর পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সি মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও বর্তমান বিক্ষোভ সেই সময়ের মতো ব্যাপক না হলেও সহিংসতার মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। শনিবার রাতভর নতুন সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইরান পত্রিকার খবরে বলা হয়, দেশটির প্রধান শিয়া ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্রের শহর কোমে একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে একজন নিহত হন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি জনবহুল এলাকায় হামলার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড বহন করছিলেন। এদিকে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাতভর রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, আরেকটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কেরমানশাহ প্রদেশের হারসিন শহরে, যা তেহরান থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। সেখানে বন্দুক ও ছুরির হামলায় আধাসামরিক বাহিনী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবক শাখা বাসিজের এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যানুযায়ী, ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২২টির শতাধিক স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব স্থানের সংঘাতে নিহত বেড়ে ১০ জনে পৌঁছেছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার ইরান সরকারকে সতর্ক করে বলেন, যদি তেহরান ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে’ তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।’ যদিও তিনি কীভাবে বা কোন পথে হস্তক্ষেপ করবেন, তা স্পষ্ট করেননি। ট্রাম্পের এ মন্তব্যে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন এবং তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা- এই তিনের সমন্বয়েই ইরান আবারও একঅস্থির সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
এইচএ