ভোলার তজুমদ্দিনে যুবদল ও শ্রমিকদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ শশীগঞ্জ বাজার এলাকা সংলগ্ন হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন: মো. নোমান (২৫), আব্দুল গফুর (৩৫), মিরাজ (২৫), আল-আমীন (২৫), রুবেল (৩৫)। এর মধ্যে আল-আমীনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন ও যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন হাওলাদারের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘন্টা দীর্ঘ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে ৫ জনকে ভর্তি করা হয় এবং বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হামলায় একে অপরকে দায়ী করে উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটন বলেন, “স্থানীয় যুবলীগ নেতা সবুজ তালুকদারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের দেনা-পাওনা রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে শশীগঞ্জ বাজারে সবুজের কাছ থেকে তার পাওনা টাকা চাইতে গেলে সেখানে যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন ও মিজানের নেতৃত্বে এক দল তার উপর হামলা চালায়।”
পাল্টা অভিযোগ এনে যুবদল নেতা গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার জানান, “মঙ্গলবার দুপুরে ইকবাল হোসেন লিটন দক্ষিণ শশীগঞ্জ বাজারে এসে ব্যবসায়ীদেরকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দসহ মারধর করেন। এ সময় রুবেল নামের এক যুবদল কর্মী বাধা দিলে তারা রুবেলকে পিটিয়ে আহত করে। পরে বাজারের লোকজন তাদের প্রতিহত করতে গেলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে তাদের গ্রুপের রুবেল, ইলিয়াছ ও আবু সাইদসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।”
এদিকে, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হলে পুলিশ, নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সালাম বলেন, “বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এনআই