ত্রিশালে লেপ-তোষকের কারিগরদের দম ফেলার সুযোগ নেই
পৌষের হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় জবুথবু হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার জনজীবন। শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীত নিবারণে সাধারণ মানুষের ভরসা এখন লেপ-তোষক।
ফলে ত্রিশাল পৌরবাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে লেপ-তোষকের দোকানগুলোতে তুঙ্গে ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। দিন-রাত তুলা ধোনা ও সেলাইয়ের ‘খটখট’ শব্দে মুখরিত কারিগরদের আঙিনা। কয়েক দিনের টানা শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে লেপ-তোষকের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
কারিগররা জানিয়েছেন, বছরের অন্যান্য সময়ে তারা অলস সময় পার করেন, তবে শীতের এই তিন মাস তাদের আয়ের মূল মৌসুম। কাজের চাপে অনেক দোকানেই এখন নাওয়াখাওয়ার সময় মেলে না। নতুন লেপ তৈরির পাশাপাশি পুরোনো লেপ মেরামত বা নতুন করে তুলা ভরার ভিড়ও চোখে পড়ার মতো।
পৌরবাজারের এক কারিগর সেলিম মিয়া বলেন, “প্রতিদিন একজন কারিগর ৩–৪টি লেপ তৈরি করছেন। তবু সময়মতো ডেলিভারি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শীত যত বাড়ছে, অর্ডারের স্তূপ তত বড় হচ্ছে।”
ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুলা ও কাপড়ের গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে লেপ-তোষকের দাম নির্ধারিত হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে শিমুল তুলা, কার্পাস তুলা ও গার্মেন্টসের ঝুট তুলা পাওয়া যাচ্ছে। আকার ও মানভেদে একটি লেপ তৈরি করতে বর্তমানে ১,৫০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ছে। তবে গত বছরের তুলনায় তুলা ও কাপড়ের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচও বেড়েছে।
শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কারিগরদের এই কর্মযজ্ঞ মাঘ মাস পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিম্নবিত্ত ও দুস্থ মানুষের সহায়তায় সরকারি ও বেসরকারি শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি রয়েছে।
এনআই