যশোরে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক। নিহতের আপন জামাই বাসেদ আলী পরশের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী হিসেবে তিনি হত্যা মিশন শেষ করেন। ডিবি পুলিশ মিশুককে আটকের পর হত্যার দায় স্বীকার করে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি। বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন। মিশুক শহরের বেজপাড়ার চিরুনি কল এলাকার মালতী চক্রবর্তীর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জানুয়ারি যশোর পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন খুন হন শহরের শংকরপুর ইসাহাক সড়কে। ঘটনার পর থেকে পুলিশের একাধিক টিম সেখানে গিয়ে বিভিন্ন ভবনে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। পুলিশ ঘটনার পরের দিন হত্যা নেপথ্যের কারিগর হিসেবে দুইজনকে আটক করেন।
তারা হলেন, যশোর পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুলুর ছেলে বাসেদ আলী পরশ ও শংকরপুর ইসহাক সড়কের মতিন দারোগার ছেলে আসাবুল ইসলাম সাগর । নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম তাদের নামে মামলাও করেন।
পরশ নিহতের জামাই। তাদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল। পরশের স্ত্রীর সাথে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। তাদের মধ্যে একসময় বিবাহবিচ্ছেদও হয়। পরে সামাজিকভাবে আবার সেই বিরোধ মিমাংসা করা হয়। নিহতের সাথে জমিজমা নিয়ে পরশের বিরোধ। মাসখানেক হলো পরশের স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে পরশ নানাভাবে হুমকি হুমকি দিয়ে আসছিলেন। শ্বশুর আলমগীরকে খুন করার জন্য তিনি ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুককে মোটা অংকের টাকায় ভাড়া করেছিলেন।
যশোর ডিবি পুলিশের উপ পরিদর্শক (এস আই) অলক কুমার দে জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বুধবার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুকের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে বেজপাড়া মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি বিএনপি নেতা আলমগীরকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করেন। হত্যা মিশনে অংশ নেয়া অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এফএস