কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যেরচর গ্রামের খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ।
আহতদের মধ্যে সেলিম মিয়া (৩৫), ওয়াসকুরুনী (৪৫), জিনিয়া বেগম (২৪), ইমন মিয়া (২২), সাদ্দাম মিয়া (৩০), সাঝু মিয়া (৫৪), সবুজ মিয়া (৩৩), শরীফ মিয়া (২৫), মাহবুল মিয়া (৩৪), পাবেল মিয়া (২৬), ইকবাল হোসেন (৫১) ও সালমান ফরাজি (১৭) ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে সবুজ মিয়া ও সাদ্দাম মিয়া গুরুতর আহত হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আব্দুল করীম।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মধ্যেরচর একাডেমি সংগঠনের উদ্যোগে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিল। গত ৯ জানুয়ারি বিকেলে সেমিফাইনাল খেলায় ভাটিকৃষ্ণনগর একাদশ ও মধ্যেরচর কলেজপাড়া একাদশ অংশ নেয়। খেলা চলাকালে প্রথমে মধ্যেরচর কলেজপাড়া একাদশ একটি গোল করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভাটিকৃষ্ণনগর একাদশ দুইটি গোল করলে মাঠে দুই দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।
হট্টগোলের একপর্যায়ে টুর্নামেন্ট কমিটি হস্তক্ষেপ করলে কলেজপাড়া একাদশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ওই দিন রাতে ভৈরব থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
পরদিন শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার উদ্যোগ নিলে আলোচনা ভেঙে যায়। এরপর মধ্যেরচর গ্রামের পশ্চিমপাড়া ও পূর্বপাড়ার লোকজন দা, লাঠি, বল্লম, টেঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে পশ্চিমপাড়ার নেতৃত্ব দেন বড়বাড়ির লোকজন এবং পূর্বপাড়ার নেতৃত্ব দেন কলেজপাড়ার লোকজন। কলেজপাড়ার পক্ষে পাঁচবাড়ি, আলগাবাড়ি ও উলাইস্যাবাড়ির লোকজনও যোগ দেন।
টানা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. এইচ. এম. আজিমুল হকের নেতৃত্বে ভৈরব থানা পুলিশ ও ভৈরব সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যদের কঠোর অবস্থানের ফলে নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ ২০ জন আহত হন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ভৈরব থানা পুলিশ।
এনআই