পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দু'পক্ষের চলমান সংঘর্ষের মধ্যে দিশেহারা হয়ে প্রাণ বাঁচাতে এপার সীমান্তে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার প্রায় ৫০ জন সদস্যকে সীমান্তপ্রহরী বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা আটক করেছেন।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালের দিকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আরসা সদস্যদের সাথে রাখাইন রাজ্য দখলে নেওয়া আরাকান আর্মির তুমূল সংঘর্ষ হয়।
দু'পক্ষের চলমান এই সংঘাতে দিশেহারা হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হেফাজতে থাকা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, গত কয়েক দিন ধরে সীমান্তের ওপারে রাখাইন রাজ্যে দু'পক্ষের সংঘর্ষ চলে আসছিল। দু'পক্ষের ছোঁড়া গোলাগুলির বিকট শব্দে এপারে সীমান্তবাসীর রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
তারেই ধারাবাহিকতায় রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালের দিকে ফের সংঘর্ষে লিপ্ত হয় তারা। তাদের বেপরোয়া ছোঁড়া গুলিতে একজন কিশোরী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ও বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন।
এসময় সংঘটিত ঘটনা চলাকালীন নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপ বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ করলে স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক করতে সক্ষম হন বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ‘ওপার সীমান্ত থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা সবাই উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গা। তারা এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।’
ধারনা করা হচ্ছে, রাখাইন রাজ্যে দু'পক্ষের চলমান সহিংসতায় অংশ গ্রহণ করতে এই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে প্রবেশ করে।
হেফাজতে নেওয়া রোহিঙ্গা যুবকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সীদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ইখা