নেত্রকোনায় অতিরিক্ত শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে বোরো ধানের আবাদ। প্রতিকূল আবহাওয়ার ফলে নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ করতে পারছেন না কৃষকরা। এতে করে জেলার হাওড়াঞ্চলে বোরো রোপণ কাজ পিছিয়ে গেছে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন।
হাওড়াঞ্চলখ্যাত নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ জমিতে এই সময়ের মধ্যে বোরো ধানের চারা রোপণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তীব্র ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে অনেক এলাকায় এখনও রোপণ চলমান রয়েছে। কোথাও আবার জমি প্রস্তুতের কাজ করছেন কৃষকরা। অতিরিক্ত শীতের কারণে সময়মতো চারা রোপণ করতে না পারায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
একদিকে রোপণ বিলম্ব, অন্যদিকে মার্চ-এপ্রিলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের আগাম বন্যার আশঙ্কা-এই দুই শঙ্কায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন হাওড়াঞ্চলের কৃষকরা। তাদের আশঙ্কা, রোপণ পিছিয়ে যাওয়ায় ধান কাটার সময়ও পিছিয়ে যাবে, ফলে আগাম বন্যা হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
চাষাবাদের এই সংকটময় সময়ে শীত ও সম্ভাব্য আগাম বন্যা-দুই দিক থেকেই চাপে পড়েছেন কৃষকরা। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এবারের বোরো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলেই দ্রুত রোপণ কাজ শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কৃষকদের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আমিরুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে বোরো আবাদ কিছুটা পিছিয়েছে, তবে হাওড় এলাকায় বোরো রোপণ নিয়ে তেমন শঙ্কা নেই। পিছিয়ে পড়লেও লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি আবাদ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নেত্রকোনার হাওড় এলাকায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৭৫ হেক্টর। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৩৯ হাজার ৫৮৫ হেক্টর। এছাড়া, জেলায় মোট বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর, যার মধ্যে এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৫৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর। বাকি জমিতে এখনও আবাদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এসআর