প্রতি বছরের মতো এবারও মাস্তুল ফাউন্ডেশন ও আল যাকাত সাদাকা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘যাকাত কনফারেন্স–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সপ্তম বারের মত এই কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
কনফারেন্সে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার, সরকারের একাধিক উপদেষ্টা, সচিব ও কর্মকর্তা, সমাজসেবী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, ডক্টরগণ এবং মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সকল দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী কনফারেন্সটি তিনটি সেশনে অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ডঃ আ ফ ম খালিদ হোসেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম,পরিকল্পনা কমিশন ভৌত অবকাঠামো বিভাগ সদস্য (সিনিয়র সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ, ইসলামিক স্কলার ও সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ ড্যাফোডিল-এর পরিচালক শায়খ প্রফেসর ড. মোঃ মোখতার আহমাদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক শায়খ প্রফেসর ডক্টর মোঃ ইমাম হুসাইন, শরিয়াহ এডভাইজরি এন্ড রিসার্চ কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান শায়খ মুফতি মাসুম বিল্লাহ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আঃ ছালাম খান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব এ বি এম সাদেকুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কালাম উদ্দিন বিশ্বাস, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ দাউদ মিয়া (এন ডি সি), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসেফিক-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মোঃ শামসুল আলম, কে জি এস এম গ্রুপ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর মনোয়ার হোসেন মইনুল, ফ্রেবিক লাগবে লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম, ডে টেম্পেটে লিমিটেড আইটি সলিউশন-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর কামরুল হাসান, বি টি আই লিমিটেড-এর ডিরেক্টর ফাইজুল রহমান খান।
এ ছাড়াও বিশেষ ইসলামিক আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস ড. মুফতী ওয়ালীয়ুর রহমান খান, জামিয়া মাহমুদিয়ার প্রধান মুফতি শায়খ রেজাউল করিম আবরার, শায়খ মুুফতি আহসানুল ইসলাম (সি এস এ এ), শায়খ মুফতি জুবায়ের আব্দুল্লাহ নবিসহ প্রমুখ।
যাকাত কনফারেন্সের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানবিক উন্নয়নে যাকাতের কার্যকারিতা, সম্ভাবনা ও বাস্তব প্রয়োগ তুলে ধরা। একই সঙ্গে যাকাতের ফরজিয়ত ও গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, যাকাতের শুদ্ধ অনুশীলন ও প্রসার, যাকাতের হিসাব ও পরিমাণ নির্ধারণ, আধুনিক প্রেক্ষাপটে যাকাতের প্রয়োগ, যাকাত বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন ভৌত অবকাঠামো বিভাগ সদস্য (সিনিয়র সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ বলেন— ‘আজ যদি আমরা সত্যিকারর্থে সমাজ থেকে দারিদ্রতা নির্মূল করতে চাই তাহলে যাকাতকে শুধু মাত্র ব্যাক্তিগত ইবাদতের পর্যায়ে রাখলে চলবে না। বরং প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিকল্পিত টেকসই যাকাত ব্যাবস্থা। মাস্তুল ফাউন্ডেশন এর মত যাকাতের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথভাবে যাকাতের ফান্ড দিয়ে সহযোগিতা করলে সমাজ দরিদ্রতার চক্র থেকে বের হয়ে আসতে পারবে বলে আমি আশাবাদি।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক শায়খ প্রফেসর ডক্টর মোঃ ইমাম হুসাইন পবিত্র কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন- ‘যাকাতের সঠিক বাস্তবায়ন একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। বর্তমানে সে ব্যাবস্থা না থাকায় ব্যাক্তিউদ্যোগে শাড়ি-লুঙ্গি না দিয়ে সামষ্টিকভাবে যাকাত ফান্ড দিয়ে সমাজে আরও কার্যকরী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব। এমনই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন। তাদের স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পে যাকাতের ফান্ড দিয়ে সমাজ থেকে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সকলকে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানাচ্ছি।’
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক, কাজী রিয়াজ রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন— "আমাদের প্রতিটি কাজ শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তা'য়ালার সন্তুষ্টির জন্য। মাস্তুল ফাউন্ডেশন প্রতিনিয়ত যাকাত তহবিলের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সমাজের যাদের ওপর যাকাত ফরজ হয়েছে তারা যদি সঠিক নিয়মে ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যাকাত আদায় করেন, তবে সমাজ থেকে দারিদ্র্য একদিন অবশ্যই দূর হবে ইনশাআল্লাহ।”
আল যাকাত সাদাকা ফাউন্ডেশন, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, মিনারাত ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস এবং রেডি গ্লোবাল সলিউশনসহ অনেকেই এ কনফারেন্সের সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল।
মাস্তুল ফাউন্ডেশন সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত একটি স্বনামধন্য ও সেবামূলক জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। ২০১২ সাল থেকে মাস্তুল ফাউন্ডেশন দেশ ও ২০২৩ সাল থেকে দেশের বাহিরে মানবিক সেবার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০২৪ সালে গাজা ও ২০২৫ সালে সুদানের সংকটের সময়ে তারা দ্রুত এবং জরুরি সহায়তা-খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সামগ্রী-পৌঁছে দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। দেশের ভেতরে দারিদ্র্য নিরসনে তাদের সমন্বিত ও টেকসই কার্যক্রম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শিক্ষা, সেলাই প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার স্কিলসহ নানামুখী কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং মাস্তুল ফাউন্ডেশনের অন্যতম সফল প্রকল্প "যাকাত স্বাবলম্বী" এর মাধ্যমে অসংখ্য অসহায় ব্যক্তি ও যুব সমাজের জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন বিনামূল্যে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের একবেলার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। এতিম শিশু এবং প্রবীণদের জন্য নির্মাণাধীন শেল্টার হোম কমপ্লেক্স প্রকল্পটি ভবিষ্যতের প্রতি মাস্তুলের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। মেহমানখানায় দৈনিক বিনামূল্যে খাবার বিতরণ থেকে শুরু উল্লেখ্য,সরকারি নিবন্ধিত ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইন অনুযায়ী, মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে প্রদত্ত যেকোনো দান, যাকাত বা সাদাকা আয়করমুক্ত, যা দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হবে।
ইখা