কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আলোচিত কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান হত্যা মামলায় আরও ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এছাড়া গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে মামলার প্রধান আসামি মিরাজ ও তার সহযোগী ইব্রাহীম ওরফে নিদানকে গ্রেপ্তার করে গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছিল। ভৈরব রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: পৌর শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার দানিয়াল (২৫), সায়েম ওরফে বাংলা (২৬), ঘোড়াকান্দা এলাকার রনি মিয়া (২০), শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর এলাকার আলমগীর হোসেন (২৫), কুলিয়ারচর থানার সরারচর এলাকার সবুজ মিয়া পাপ্পু ওরফে তামিম (১৪) এবং বাজিতপুর উপজেলার সুজন মিয়া (২২)।
ভৈরব রেলওয়ে থানা পুলিশ জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় পৌর শহরের নিউটাউন এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে কলেজ শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ানের (১৯) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর থানার বাদে কড়িয়াল এলাকার আবু তাহের মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি নিহতের বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ওসি সাঈদ আহমেদ জানান, প্রধান আসামি মেরাজ ও তার সহযোগী নিদানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গত রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত ১৪ বছরের এক কিশোর রয়েছে। আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
হত্যার কারণ: পুলিশি তদন্তে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ভৈরবে আসেন আবু সুফিয়ান। স্টেশনে ট্রেনের ইঞ্জিন ঘুরানোর সময় তিনি ট্রেনের ইঞ্জিনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় ছিনতাইকারীরা তাকে স্টেশনের অদূরে ইঞ্জিন থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে ছুরিকাঘাত করে। পরে তার কাছ থেকে নগদ ৮০০ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে যেকোনো সময় আবু সুফিয়ান মৃত্যুবরণ করেন।
এ নিয়ে এই হত্যাকাণ্ডে মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এনআই