এইমাত্র
  • শাহজালাল বিমানবন্দর: সক্ষমতার দ্বিগুণ চাপে স্থবির যাত্রী সেবা
  • ধানের শীষে ভোট চাইলেন সাংবাদিক হত্যার প্রধান আসামি আ.লীগ নেতা বাবু চেয়ারম্যান
  • অপহরণের নাটক সাজিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা, যুবক আটক
  • আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি, শক্তি জানান দিতে প্রস্তুত জামায়াত
  • বেনাপোলের পল্লীতে পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণ, তিন শ্রমিক আহত
  • যশোরে আলমসাধু উল্টে দুই ভাই হতাহত
  • পাবনা-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
  • মা-বোনদের সম্মান করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: জামায়াত আমির
  • ত্রিশালে উন্নয়ন হবে দল–মত নির্বিশেষে, সবার জন্য দরজা খোলা: ডা. লিটন
  • থাইল্যান্ডে রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতলেন চুয়াডাঙ্গার তরুণ বিজ্ঞানী জিহাদ
  • আজ বুধবার, ২১ মাঘ, ১৪৩২ | ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    নোয়াখালী-৪

    আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি, শক্তি জানান দিতে প্রস্তুত জামায়াত

    আরিফ সবুজ, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০০ পিএম
    আরিফ সবুজ, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

    আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি, শক্তি জানান দিতে প্রস্তুত জামায়াত

    আরিফ সবুজ, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশ: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

    নোয়াখালী সদর ও সুবর্ণচর উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৪ সংসদীয় আসন মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা পলিমাটির চরাঞ্চল সুবর্ণচর এবং জেলা সদর মাইজদীকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত। ঐতিহাসিকভাবে এই আসন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সময়ের ব্যবধানে রাজনৈতিক সমীকরণে এসেছে বড় পরিবর্তন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনটি ঘিরে আবারও জমে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

    বিএনপির উত্থান ও দীর্ঘ আধিপত্য

    ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির হাত থেকে আসনটি প্রথম দখল করে বিএনপি। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি ও জুন) এবং ২০০১—টানা চারবার মোহাম্মদ শাহজাহান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই সময়েই নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির প্রভাব দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

    ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মোহাম্মদ শাহজাহান ৩৩ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আওয়ামী লীগের গোলাম মহিউদ্দিন লাতু পান ২৯ হাজার ২৬১ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. বোরহান উদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১৬ হাজার ২১৬ ভোট। ওই নির্বাচনেই জামায়াত উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়।

    পালাবদলের সূচনা

    ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। আওয়ামী লীগের একরামুল করিম চৌধুরী বিএনপির প্রভাবশালী প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহানকে পরাজিত করেন। ওই নির্বাচনে বিএনপি থেকে বেরিয়ে বিকল্প ধারায় প্রার্থী হওয়া মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান ভোটের সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখেন।

    ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ না থাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী একতরফাভাবে জয়ী হন। ফলে দীর্ঘ সময় ভোটের মাঠে কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুপস্থিত ছিল।

    ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নোয়াখালী-৪ আসনে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

    বিএনপি এ আসনে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী পরিবর্তন করে জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকারকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মনোনয়ন দিয়েছে।

    জামায়াতের বার্তা

    সুবর্ণচর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা জামাল উদ্দিন বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। তাঁর দাবি, ‘লাঙ্গল, নৌকা, ধানের শীষ—সবই মানুষ দেখেছে। এবার দাঁড়িপাল্লার শাসন দেখতে চায়।’ তিনি বলেন, জামায়াতের ভোট আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাড়বে।

    সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. মিরাজুল ইসলাম বলেন, আগের তুলনায় তাঁদের ভোট কয়েক গুণ বাড়বে। ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে জনগণের পাশে থাকার কথা জানান তিনি।

    বিএনপির হিসাব-নিকাশ

    বিএনপির স্থানীয় একাধিক নেতা জানান, আসনটি পুনরুদ্ধারে তাঁরা আশাবাদী। তাঁদের মতে, সুবর্ণচর ও সদরের তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সংগঠন এখনো সক্রিয় রয়েছে। দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ শাহজাহানের ছেলে আবু সালেহ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সবুজ বলেন, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘ভোটাররাই প্রমাণ করবে এটি বিএনপির ঘাঁটি।’

    ভোটের মাঠে সম্ভাব্য সমীকরণ

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এই আসনে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। চরাঞ্চল সুবর্ণচর ও শহরকেন্দ্রিক সদর এলাকায় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব জামায়াতের জন্য কিছুটা সুবিধাজনক হলেও ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত অবস্থান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ফলে শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল নির্ভর করবে ভোটার উপস্থিতি, জোটের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং শেষ সময়ের জনমত কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর।

    ইখা

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…