ভোলার মনপুরায় রোগী দেখার সময় স্থানীয় জনগণের হাতে আলাউদ্দিন শিকদার নামের (৪৭) নামের এক ভুয়া চিকিৎসক আটক হয়েছেন। আলাউদ্দিন চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর মাদ্রাজ ইউনিয়নের মৃত কয়ছরের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে ওই চিকিৎসককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এরআগে, বুধবার রাতে উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নারগিস বেগমের বাড়িতে রোগী দেখার সময় স্থানীয় জনতার হাতে ভুয়া ডাক্তার হিসেবে আটক হন তিনি। পরে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন।
জানা গেছে, গেল ৩১ জানুয়ারি সকালে মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ইউনুস অসুস্থতা জনিত কারণে আলাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আলাউদ্দিন ২০ হাজার টাকায় ইউনুসের চিকিৎসা করার চুক্তি করেন। পরে ওই দিন বিকেলে ইউনুসকে একটি প্রেসক্রিপশন লিখে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে আসেন তিনি। লিখিত প্রেসক্রিপশনের ঔষধ খেয়ে ইউনুস দিন দিন অসুস্থ হয়ে পরেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ইউনুস ও তার ছেলে স্থানীয় অন্য চিকিৎসকের দ্বারস্থ হলে প্রেসক্রিপশনটি ভুয়া বলে ধারণা করেন অপর ওই চিকিৎসক।
পরে, গতকাল রাতে পূনরায় আলাউদ্দিন ইউনুসের কাছে বাকী ৩ হাজার টাকা আনতে গেলে তাকে বাসায় না পেয়ে পাশের বাসার নারগিস বেগমকে চিকিৎসা দিতে যান। এসময় খবর পেয়ে ভুক্তভোগী ইউনুস ও তার ছেলেসহ কয়েকজন মিলে আলাউদ্দিনের কাছে গিয়ে তার নিবন্ধন ও চিকিৎসা বিষয়ে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে তারা আলাউদ্দিনকে আটক করে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক চিকিৎসাবাদে আলাউদ্দিন ভুয়া চিকিৎসকের বিষয়টি স্বাকীর করেন। এবং কোন সনদ দেখাতে পারেননি।
এঘটনার পর ভুক্তভোগী ইউনুস মিয়ার ছেলে অহিদ মিয়া বাদী হয়ে মনপুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল বলেন, ভুয়া চিকিৎসকের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকা জরুরি। ভুয়া চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্যসেবাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। আলাউদ্দিন শিকদারকে ভোলার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে।
এফএস