ভোটে নিরঙ্কুশ জয় এবং কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে স্পষ্ট ব্যবধান থাকার পরও এখনো মিলছে না চূড়ান্ত স্বীকৃতি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষিত হলেও চট্টগ্রামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ) আসনের নির্বাচিত দুই প্রার্থীর ভাগ্য ঝুলে আছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ওপর।
আসন দুটি থেকে বিজয়ী প্রার্থী হলেন বিএনপি মনোনীত সারোয়ার আলমগীর ও আসলাম চৌধুরী। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড): গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে পেয়েছেন ১,৪২,৬৭৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯,২৬৮ ভোট। ভোটের হিসাবে স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হলেও আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তাঁর প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও যমুনা ব্যাংক। হাইকোর্ট আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখলেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ লিভ মঞ্জুর করে আদেশ দেন যে, তিনি নির্বাচন করতে পারবেন; তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিজয়ের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা যাবে না।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে চট্টগ্রাম-২ আসনেও। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ১,৩৮,৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৬২,১৬০ ভোট। এই আসনেও জামায়াত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে আদালতে যান। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সেই লিভ মঞ্জুর করে জানান, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং তাঁর প্রাপ্ত ভোট বৈধ থাকবে, তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে।
আইনি প্রেক্ষাপট: আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিল শুনানিতে যদি প্রমাণিত হয় যে সংশ্লিষ্ট দুই প্রার্থী ঋণখেলাপি নন, তবে নির্বাচন কমিশন দ্রুত তাঁদের নির্বাচনী ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে। অন্যথায় ফলাফল বাতিলসহ ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে চট্টগ্রামের এই দুটি আসন আইনিভাবে অনেকটা ‘শূন্য’ অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই আসনের রায় ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। নির্বাচন কমিশনও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আদালতের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে গেজেট প্রকাশের কোনো সুযোগ তাদের নেই।
এনআই