নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ব্যবসায়ী হেকমত আলী (৪০) হত্যা মামলায় রফিকুল ইসলাম সবুজ (৩০) নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরেক আসামিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম সবুজ রূপগঞ্জের মোল্লাবাড়ি এলাকার ইয়াকুব হোসাইনের ছেলে। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি তাঁর ভাই মাহফুজুর রহমান (২৬)।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ জানান, অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় রফিকুল ইসলাম সবুজকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মাহফুজুর রহমানকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর আসামি মামুন মিয়া (২৩) অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল সকাল থেকে রূপগঞ্জ উপজেলার কালাদি এলাকার ব্যবসায়ী হেকমত আলী নিখোঁজ ছিলেন। তিনি ভুলতা নূর ম্যানশন মার্কেটে ‘হাসান এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি মোটর পার্টসের দোকানের মালিক ছিলেন।
নিখোঁজের ১০ দিন পর ১৪ এপ্রিল তাঁর স্ত্রী রোকসানা বেগম রূপগঞ্জ থানায় অপহরণ ও গুমের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় দোকানের কর্মচারী রফিকুল ইসলাম সবুজ, তাঁর ভাই মাহফুজুর রহমান, মামুন মিয়া ও তাঁদের বাবা ইয়াকুব মোল্লাকে আসামি করা হয়।
পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর রফিকুল ইসলাম সবুজ জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে একটি ড্রামের ভেতরে রাখা হয়। পরে ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে মাছের খামারের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।
নিখোঁজের প্রায় তিন মাস পর রূপগঞ্জ উপজেলার কেশবপুর এলাকায় একটি মাছের খামারের পানিতে ড্রামের ভেতর থেকে হেকমত আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পিবিআই সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন।
ইখা