শুরু হলো পবিত্র রমজান মাস। আর রোজা শুরু হতেই চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় হঠাৎ করেই লেবুর বাজারে চড়া দামের ধাক্কা লেগেছে। বাজারে এক হালি লেবু ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। এতে ইফতারের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সরেজমিনে উপজেলার কেরানীহাট বাজার ঘুরে চড়া দামের এই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন জাতের লেবুর হালি (চারটি) বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। সেই হিসাবে প্রতিটি লেবুর দাম পড়ছে সর্বনিম্ন ২০ থেকে ২৫ টাকা। ক্রেতাদের অভিযোগ, সপ্তাহখানেক আগেও যে দামে এক ডজন লেবু পাওয়া যেত, এখন সেই দামে মিলছে মাত্র এক হালি।
কেরানীহাট বাজারের দোকানগুলোতে লেবুর ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে; কিন্তু দাম শুনে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বাজারের ভ্যানগাড়িগুলোতেও একই অবস্থা—৮০ টাকার কমে কেউ লেবু বিক্রি করছেন না।
একজন খুচরা বিক্রেতা জানান, আগে নিয়মিত দামেই লেবু বিক্রি হতো। কিন্তু রমজান ঘিরে পাইকারি বাজারে দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। তারা বেশি দামে কেনার কারণে কম দামে বিক্রি করতে পারছেন না।
কেরানীহাট এলাকার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, "রমজানে ইফতারে লেবুর শরবত না হলে চলে না। কিন্তু যে দামে এক ডজন লেবু কিনতাম, এখন সেই দামে এক হালি কিনতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটি অনেক কষ্টকর।"
গৃহিণী শামীমা আক্তার বলেন, "সবকিছুর দামই বাড়ছে, তার ওপর লেবুর দাম এভাবে বাড়লে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। রমজানের শুরুতেই যদি এমন হয়, তবে সামনে কী হবে ভেবে ভয় লাগছে।"
বিক্রেতা আবদুল কাদের ও নূর আলমের ভাষ্যমতে, রমজানে চাহিদা বেশি থাকায় অনেক পাইকার সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই সাথে পরিবহন খরচ বৃদ্ধিকেও দায়ী করছেন তারা।
রমজান মাসে ধনী-গরিব নির্বিশেষে ইফতারে লেবুর শরবত অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়। তাই রোজা শুরু হতেই লেবুর এমন চড়া দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যব্যয়ের তালিকায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং বাজার তদারকি জোরদার করা না হলে দাম আরও বাড়তে পারে। প্রশাসনের বাজার মনিটরিং জোরদার করা হলে কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে দাবি সাধারণ ক্রেতাদের।
এনআই