ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সম্মানী থেকে টাকা কর্তনের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে তিনি বলেন, “আপনাদের যত ক্ষমতা আছে লেখেন। আমার বিরুদ্ধে যা পারেন করেন, মানববন্ধন করান।”
অভিযোগ রয়েছে, রংপুর-২ (বদরগঞ্জ–তারাগঞ্জ) আসনের তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪৩টি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সম্মানী থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে কর্তন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৪৮৮ জন পোলিং অফিসার, ৪৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ২৪৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে এ অর্থ কেটে নেওয়া হয়। এতে মোট প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু হাই দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে এ টাকা সংগ্রহ করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে ১৭ ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর ও ট্যাক্স বাবদ এ অর্থ কর্তন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ‘সময়ের কণ্ঠস্বর’ ও ‘দৈনিক আমাদের সময়’-এর তারাগঞ্জ প্রতিনিধি এনামুল হক দুখু এবং ‘দৈনিক আমার দেশ’-এর প্রতিনিধি আব্দুল্লাহিল শাহীন ইউএনওর কার্যালয়ে যান। তাদের অভিযোগ, প্রশ্নের জবাবে ইউএনও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
রংপুর-২ আসনের অপর উপজেলা বদরগঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পূর্ণাঙ্গ সম্মানী প্রদান করা হলেও তারাগঞ্জে ২০০ টাকা করে কর্তনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন শেষে পাঁচ দিন পর কর্তনকৃত টাকা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের তারাগঞ্জ শাখায় সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।
ইউএনও মোনাব্বর হোসেন বলেন, “আপনাদের যা ক্ষমতা আছে লেখেন। আমার নামে মানববন্ধন করান। যা খুশি করেন।”
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইখা