লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি কলেজ-এ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এতে পাঠদান, পরীক্ষার প্রস্তুতি, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী সেবায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারি জনবল কাঠামো থাকলেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক নেই। বিশেষ করে রসায়ন ও উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে অধ্যাপক পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া একাধিক বিভাগে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করা যাচ্ছে না।
অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষককে একাধিক বর্ষ ও বিভাগে পাঠদান করতে হচ্ছে। ফলে সিলেবাস শেষ করা, শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুধু শিক্ষক নয়, প্রশাসনিক ও সহায়ক জনবলেও বড় ধরনের সংকট রয়েছে। অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) এবং নিরাপত্তা প্রহরীর একাধিক পদ শূন্য রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের সনদ, নম্বরপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেতে বিলম্ব হচ্ছে। নিরাপত্তা প্রহরীর সংকট কলেজের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের একাধিক শিক্ষার্থীরা বলেন অনেক বিষয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় না। সিলেবাস শেষ করতে পারছি না। পরীক্ষার আগে প্রাইভেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক সময় একটি ক্লাসে ২০০-৩০০ শিক্ষার্থী থাকে, ফলে ঠিকমতো বুঝতে সমস্যা হয়। অফিসেও কাজ করাতে গেলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রসেসর মো. আবুল বাসার বলেন,“শিক্ষক ও জনবল সংকট একটি বড় সমস্যা। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা গেলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।”
স্থানীয় শিক্ষাবিদরা মনে করেন, দীর্ঘদিন শিক্ষক ও কর্মচারী সংকট চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল ও উচ্চশিক্ষায় প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে মফস্বল এলাকার কলেজগুলোতে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শিক্ষার মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও জনবল সংকটের কারণে কলেজটির কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষক ও জনবল সংকটের কারণে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার মান আরও অবনতির ঝুঁকিতে পড়বে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন ,সরকারি কলেজের নিয়োগ প্রক্রিয়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে আমরা কোন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে পারি না। মাধ্যমিক পর্যায়ের যে সকল শিক্ষক সংকট রয়েছে, সারা দেশব্যাপী একই রকম সমস্যা রয়েছে , তারপরও আমরা চেষ্টা করবো উধ্বর্তন কর্মকর্তাকে বলে সমস্যা সমাধানের জন্য ।
পিএম