এইমাত্র
  • প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হলেন আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ
  • জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
  • বৃহস্পতিবার থেকে স্কুলের ছুটি শুরু
  • রমজানের প্রথম দিনেই গাজায় শিশুসহ দুজনকে হত্যা করলো ইসরায়েল
  • সংসদ সদস্যদের পেনশন বাতিল করলো শ্রীলঙ্কা
  • বাংলাদেশের প্রশংসা করে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে ধুয়ে দিলেন মমতা
  • ‘বাচ্চারা পড়তে বসো, শিক্ষামন্ত্রী এখন মিলন ভাই’
  • ‘যা পারেন লেখেন’—টাকা কর্তন ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রতি তারাগঞ্জের ইউএনও
  • নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড
  • গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
  • আজ বৃহস্পতিবার, ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    পবিত্র রমজানেও বরিশালের বাজারে অস্থিরতা; ফল কিনতে ক্রেতাদের হিমশিম

    আরিফ হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (বরিশাল) প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
    আরিফ হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (বরিশাল) প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

    পবিত্র রমজানেও বরিশালের বাজারে অস্থিরতা; ফল কিনতে ক্রেতাদের হিমশিম

    আরিফ হোসেন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (বরিশাল) প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

    পবিত্র মাহে রমজানের আগের দিন ও প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার। সিয়াম সাধনার এই মাসকে ঘিরে বরিশালের বাজারে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দাম। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান মাসকে জিম্মি করে বিভিন্ন ফল, খেজুর ও ইফতার সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য হঠাৎ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তেল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ এবং সব ধরনের মুরগি ও গরুর মাংস চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। পাশাপাশি মাছের বাজারও চড়া। ফলে নাভিশ্বাস উঠেছে নিম্ন আয়ের মানুষের।


    কয়েক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন ধরনের খেজুরে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। রমজানে ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুর হলেও তা এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। খোলা খেজুর—যা কয়েকদিন আগেও ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০-২৫০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ৫০-৭০ টাকা। এতে মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।


    বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড বাজার, বটতলা বাজার, নতুন বাজার ও বাংলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে—মরিয়ম খেজুর ১২০০ টাকা, খুরমা ২৮০ টাকা, জাহেদী ৩২০ টাকা, নাগাল ৪০০ টাকা, বড়ই খেজুর ৫০০ টাকা, গাবাজ ৫০০ টাকা, ছড়া খেজুর ৬০০ টাকা, কামরাঙা ৬০০ টাকা এবং কালমি খেজুর ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানে এসব দাম চললেও শপিং সেন্টার ও অভিজাত দোকানে দাম আরও বেশি। অন্যদিকে, আজোয়া ও মাবরুম খেজুর কেজিপ্রতি ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


    ফলের বাজারেও রয়েছে চড়া দর। নগরীর ফলপট্টি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছর রমজান এলেই অসাধু ব্যবসায়ীরা কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে বরিশাল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।


    রমজানের প্রথম দিন ইফতারের জন্য ফল কিনতে বাজারে এসেছিলেন খালেক নামে এক বৃদ্ধ। আঙ্গুর কিনতে এসে দাম শুনে হতাশ হয়ে তিনি খালি হাতে বাড়ি ফিরে যান। এমনকি ৪০০ টাকা কেজি দরের আঙ্গুরও তিনি কিনতে পারেননি। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কালো আঙ্গুর ৫৩০-৫৫০ টাকা, সাদা আঙ্গুর ৪০০ টাকা, মাল্টা ৩২০ টাকা, কমলা ২৭০ টাকা, আনার ৪৫০ টাকা এবং আপেল ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


    ক্রেতা রবিউল বলেন, "গরিবের খেজুর এখন ২২০-২৩০ টাকা। ফলের দামে আগুন। অনেকেই হয়তো ফল ছাড়াই ইফতার করবেন।" আরেক ক্রেতা জানান, সংসারের খরচ মেটাতে যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে রমজানের বাড়তি খরচ নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। সদর রোড এলাকার ফল বিক্রেতা কবির বলেন, "গত বছরের তুলনায় এ বছর সব ধরনের খেজুরে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে।" তবে ফলপট্টির ব্যবসায়ী ফারুক হোসেনের দাবি, চাহিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে, তারা অতিরিক্ত লাভ করছেন না।


    বাজার ঘুরে আরও দেখা গেছে, শীতকালীন সবজির মৌসুম শেষ হওয়ায় বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম; যা এখন ১৬০-১৮০ টাকা কেজি। এছাড়া শসা, বেগুন ও করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চিড়া, ছোলা ও আখের গুড়ের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা, সোনালি ও লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা।


    জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, "রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম প্রতিদিন চলমান থাকবে। আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। কোনো পণ্যের দাম অযৌক্তিক হারে বাড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"


    এনআই

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    Loading…