ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আভাস অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসেই অনুষ্ঠিত হতে পারে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি জোটের ভাগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন যেতে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে দলটির ভেতরে শুরু হয়েছে আলোচনা-তৎপরতা।
চট্টগ্রাম জেলাতেও সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে স্থানীয় আড্ডাস্থল—সবখানেই প্রশ্ন, কে পাচ্ছেন মনোনয়ন। এ আলোচনায় উঠে এসেছে চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) এলাকার তরুণ রাজনৈতিক সংগঠক সায়মা আহমেদের নাম।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, সায়মা আহমেদ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি প্রয়াত কাস্টমস জালাল উদ্দিন আহমেদের কন্যা। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এমবিএ (ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং) ডিগ্রিধারী সায়মা বর্তমানে আমদানি-রপ্তানি ও ট্রেডিং ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সংগঠক হিসেবে তাঁর ভূমিকা এবং আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকায় তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ অনেকের কাছে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, প্রয়াত জালাল উদ্দিন আহমেদ দলের দুঃসময়ে আনোয়ারা–কর্ণফুলী এলাকায় সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতায় এ এলাকা দীর্ঘদিন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সে কারণেই তাঁর কন্যা সায়মা আহমেদকে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার দাবি উঠছে।
এ বিষয়ে সায়মা আহমেদ বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আন্দোলন-সংগ্রামে দল ও নেতৃত্বের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মনোনয়ন দেওয়া দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। দল আমার কাজকে যেভাবে মূল্যায়ন করবে, সেই সিদ্ধান্তের প্রতিই আমার আস্থা রয়েছে।’
সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
ইখা