ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, কুয়েন্টিন দেরাঙ্ক নামে এক ফরাসি কট্টর-ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্টের মৃত্যুকে ঘিরে মার্কিন দূতাবাসের মন্তব্যের জেরে ফ্রান্সে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত চার্লস কুশনারকে তলব করা হবে। তিনি এ ঘটনাকে ‘হস্তক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। খবর সিএনএনের।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি লিয়ঁ শহরে সংঘর্ষে গুরুতর মাথায় আঘাত পান ২৩ বছর বয়সী দেরাঙ্ক। দুই দিন পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে ট্রাম্প প্রশাসন ‘বামপন্থী সহিংসতার ফল’ বলে মন্তব্য করেছিল।
রেডিও স্টেশন ‘ফ্রান্স ইন্টার’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বারো বলেন, ‘এই ঘটনা আমাদের জাতীয় সম্প্রদায়ের বিষয়। এ নিয়ে দূতাবাসের মন্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। তাই মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হচ্ছে।’
গত শুক্রবার ফ্রান্সে মার্কিন দূতাবাস এক্সে (সাবেক টুইটার) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সন্ত্রাসবিরোধী ব্যুরোর একটি পোস্ট শেয়ার করে। সেখানে বলা হয়, দেরাঙ্ক ‘বামপন্থী উগ্রপন্থীদের হাতে নিহত হয়েছেন’—এমন প্রতিবেদন সবার উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ‘সহিংস উগ্র বামপন্থা বাড়ছে এবং দেরাঙ্কের মৃত্যু জননিরাপত্তার জন্য হুমকি।’
ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় মুখোশধারী কয়েকজন একজন ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে লাথি ও ঘুষি মারছে। এতে ফ্রান্সজুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় দুই জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেরাঙ্কের মৃত্যু নিয়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি মন্তব্য করেন, এটি ‘বামপন্থী চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীর কাজ’ এবং ইউরোপজুড়ে ‘আদর্শগত ঘৃণার পরিবেশ’ নিয়ে উদ্বেগ জানান। তার এই বক্তব্যে ফ্রান্স-ইতালি সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এটাই প্রথম নয় যে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সমালোচনার মুখে কুশনারকে তলব করা হলো। ২০২৫ সালের আগস্টে ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় ‘যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হয়নি’ বলে অভিযোগ তোলার পরও তাকে তলব করা হয়েছিল।
এবি