মেক্সিকোর মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী ও ভয়ংকর মাদকচক্র জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-এর নেতা নেমেসিও ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস ওরফে ‘এল মেনচো’ নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। খবর বিবিসির।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এল মেনচোকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তার সমর্থকদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর তীব্র সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন এল মেনচো। পরে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় জালিস্কো রাজ্যের তাপালপা শহরে এই সংঘর্ষে সিজেএনজি’র চার সদস্য নিহত হন। আহত হন তিন সেনাসদস্য। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে মেক্সিকো সরকার।
এল মেনচোর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে প্রতিশোধমূলক তাণ্ডব শুরু করেছে তার সমর্থকরা। নেতার মৃত্যুর পর সিজেএনজি বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে আগুন, সড়ক অবরোধ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। অন্তত আটটি রাজ্যে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বিভিন্ন শহরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখেছেন। উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্র পুয়ের্তো ভালার্তাতে সংঘর্ষের কারণে হাজারো পর্যটক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জালিস্কো রাজ্যের গভর্নর বাসিন্দাদের ‘কোড রেড’ সতর্কতা মেনে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজ্যে গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জালিস্কো, তামাউলিপাস, মিচোয়াকান, গুয়েরেরো ও নুয়েভো লেওন রাজ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ এল মেনচোকে ধরিয়ে দিতে তথ্যের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লানদাউ সামাজিক মাধ্যমে তাকে ‘সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও নির্মম মাদক সম্রাটদের একজন’ বলে উল্লেখ করেন। তার মৃত্যু মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় অগ্রগতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের দিকে গঠিত জালিস্কো কার্টেল নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা, রকেট লঞ্চার দিয়ে সেনা হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা, এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের আতঙ্কিত করতে সেতুতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার মতো বর্বর কাণ্ডের জন্য কুখ্যাত।
এবি