শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল আমিন রতনকে পিটিয়ে হাত ও পা ভেঙে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নড়িয়ার ভোজেশ্বর বাজারের পূর্ব পাশে ‘তিন দোকান’ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মো. নুরুল আমিন রতন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস), শরীয়তপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও আহত শিক্ষকের ভাষ্যমতে, স্কুলের উন্নয়ন কাজ তদারকি শেষে তিনি অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নড়িয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান নিক্সন খান এবং ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান সিকদারের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি দল তাঁর গতিরোধ করে। একপর্যায়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে।
পরে স্থানীয়রা আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে শরীয়তপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক নুরুল আমিন রতনের ছেলে হিমেল বলেন, "আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে। লাঠির আঘাতে তাঁর হাত ও পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। আমরা এই বর্বরোচিত ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।"
অভিযুক্ত নড়িয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান নিক্সন মুঠোফোনে বলেন, "ঘটনার সময় আমরা নড়িয়ায় ছিলাম না; সিডিউল সংগ্রহের কাজে বাইরে ছিলাম। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।"
এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ রয়েল মাঝি বলেন, "ঘটনার কথা শুনেছি। তদন্তের পর যদি দলের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বাহার মিয়া জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনআই