এইমাত্র
  • তিন শ্রেণির নাগরিক আগে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
  • পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য : প্রধানমন্ত্রী
  • মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না: গয়েশ্বর
  • প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে অপহরণের এক ঘণ্টার মধ্যে স্কুলছাত্র উদ্ধার
  • ফের আগরতলা-ঢাকা- কলকাতা বাস সার্ভিস চালু
  • রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব পদে আবারও সরওয়ার আলম
  • সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
  • ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৩ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার
  • নোয়াখালীতে ইয়াবাসহ ২ কারবারি গ্রেপ্তার
  • শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি: অদৃশ্য বিপদ ঘরে বাইরে
  • আজ বুধবার, ১১ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
    দেশজুড়ে

    লালমনিরহাটে মেডিকেল ফিটনেস সনদ নিতে চা, মিষ্টির টাকা লাগে!

    কাওছার মাহমুদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
    কাওছার মাহমুদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪০ পিএম

    লালমনিরহাটে মেডিকেল ফিটনেস সনদ নিতে চা, মিষ্টির টাকা লাগে!

    কাওছার মাহমুদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪০ পিএম

    লালমনিরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয়কে যেন ব্যক্তিগত ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করেছেন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী (বড়বাবু) নারায়ণ চন্দ্র। সরকারি এই দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় এখানে অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


    সর্বশেষ গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মেডিকেল ফিটনেস সনদ দেওয়ার নামে প্রকাশ্যে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ক্লিনিকের লাইসেন্স নবায়নসহ নানা উপায়ে ঘুষ গ্রহণ এবং ৩২ লক্ষ টাকার ওষুধ চুরিসহ নানা অভিযোগে জর্জরিত এই কর্মকর্তা।


    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার সকাল থেকেই সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ভিড় করেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। চাকরির চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে মেডিকেল ফিটনেস সনদ নিতে আসা প্রার্থীদের সুযোগ বুঝে জিম্মি করেন বড়বাবু নারায়ণ চন্দ্র। অভিযোগ উঠেছে, তিনি তাঁর নিজস্ব লোক দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘চা-মিষ্টি’ খাওয়ার নাম করে জনপ্রতি ২০০ টাকা আদায় করছেন। এদিন মোট ২৩৫ জন প্রার্থীর কাছ থেকে এই অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।


    ভুক্তভোগীদের দাবি, টাকা না দিলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা টাকা দিচ্ছেন। কোনো রসিদ ছাড়াই অফিস সহায়ক সাহেদ প্রকাশ্যে এই টাকা তুলছেন বলে জানা গেছে।


    কালীগঞ্জ থেকে আসা নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ফিটনেস সনদ নেওয়ার জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে চাওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে এটি রমজান মাসের ‘চা-মিষ্টি’ খাওয়ার খরচ। আমরা প্রতিবাদ করেও লাভ হয়নি, বাধ্য হয়েই টাকা দিয়েছি।”


    টাকা আদায়কারী অফিস সহায়ক সাহেদ বলেন, “বড়বাবু নারায়ণ চন্দ্র আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন সবার কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নিতে। কেউ কেউ ১০০ টাকাও দিচ্ছেন। আমি টাকা তুলে বড়বাবুর কাছে জমা দিই। এটি অপরাধ কি না তা বড়বাবুই ভালো বলতে পারবেন।”


    এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান সহকারী নারায়ণ চন্দ্রের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে পরবর্তীতে তিনি সংবাদকর্মীদের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন।


    আশ্চর্যের বিষয় হলো, সিভিল সার্জনের কক্ষের ঠিক পাশের কক্ষেই এই অনিয়ম চললেও এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন, “আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। সরকারি কাজে টাকা বা ঘুষ নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। অভিযোগ পেলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।”


    এনআই

    ট্যাগ :

    সম্পর্কিত:

    সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি

    সর্বশেষ প্রকাশিত

    Loading…