উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ায় প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধার ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ অঞ্চলে অবস্থিত দেশটির সরকার এবং জাতিসংঘের একাধিক সংস্থার প্রতিবেদনে। তারা বলছে, খরা, সংঘাত এবং বিশ্বব্যাপী সাহায্য হ্রাস সোমালিয়ায় মানবিক সংকট আরও তীব্র করে তুলছে। খবর রয়টার্স
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী মার্চ মাসের শেষ নাগাদ সোমালিয়ার ৬৫ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সংকট বা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার আরও খারাপ স্তরের মুখোমুখি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী অন্তত ১০ লাখ ৮৪ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ শিশু গুরুতর অপুষ্টিতে ভুগবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, পানির ঘাটতি, নিরাপত্তাহীনতা, সংঘাত এবং ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন স্তরের মানবিক সহায়তার সঙ্গে বিশ্বব্যাপী তহবিল হ্রাসের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় সোমালিয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে অনেক কম বৃষ্টিপাত সোমালিয়ায় খরার পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করেছে। এ কারণে ফসল ফলানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে, গবাদি পশু কমছে, খাদ্যের দাম বাড়ছে এবং অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুতও হচ্ছে।
সোমালিয়ার দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী জর্জ কনওয়ে বলেন, ‘সোমালিয়ায় খরা পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে’।
পানির দাম বৃদ্ধি, খাদ্য সরবরাহ সীমিত হওয়া, গবাদি পশুর মৃত্যু এবং মানবিক তহবিলের অপ্রতুলতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আগামী মাসগুলোতে জরুরি জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অপরিহার্য’।
তিনি জানান, এপ্রিল থেকে জুন অর্থাৎ প্রকৃত বর্ষাকালেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই, সুতরাং দেশটিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এবি