নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে আমেনা আক্তার (১৫) নামে এক তরুণীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৯ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন।
গ্রেফতার চার জন হলো- মহিষাসুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহমদ আলী দেওয়ান ও তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, অভিযুক্ত ধর্ষক নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব ও স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবায়দুল্লাহ। মূল অভিযুক্ত নূরা এখনও ধরা পড়েনি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ধর্ষণের ঘটনায় নয় জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আলোচিত এ ঘটনায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন হত্যার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন,‘আমি নরসিংদীর জেলা প্রশাসক এবং সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, তারা যেন এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেন এবং নিহতের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন। আমিনার পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায় তা নিশ্চিত করতে আমার সাধ্যের সবটুকু আমি করব এবং কোনো একজন অপরাধীকেও ছাড় দেওয়া হবে না।’
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে ছয় জন বখাটে ওই কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় স্থানীয় মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহমদ আলী দেওয়ান বিচার করার দায়িত্ব নেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনও বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করা হয়। ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ১৫ দিন পর বখাটে চক্রটি কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা ক্ষেত্রে ফেলে রাখে।
পুলিশ, নিহত কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা হতো। ১৫ দিন আগে ভাড়া বাসায় ফেরার পথে কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যায় নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয় জন তরুণ। তখন তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কিশোরীর সন্ধান পাননি পরিবারের সদস্যরা। সকাল সাড়ে ৯টায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিলপাড় ও দড়িকান্দি এলাকার মাঝামাঝি একটি সরিষা ক্ষেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পিএম