ছোটবেলায় টাঙ্গাইলে খাল খনন কর্মসূচী নিয়ে গান গেয়ে জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন আফরোজা খন্দকার নিপু। সেই ভালবাসা থেকেই শিক্ষা জীবনে ছাত্রদল এবং বর্তমানে বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্র্মী তিনি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এমপি পদে টাঙ্গাইলে আলোচনায় এসেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই দাবি দিনদিন জোরালো হচ্ছে।
আফরোজা খন্দকার নিপু টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের বানিয়ারা গ্রামের সন্তান। তার বাবা ওই ইউনিয়নের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার আনোয়র হোসেন। দাদা খন্দকার মজিবর রহমানও ছিলেন ছয়বারের চেয়ারম্যান। মা রাবেয়া আনোয়ার টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি।
নিপু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েত মৈত্রী ছাত্রী হল সংসদের সাবেক জিএস। তার স্বামী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হাজী মুহাম্মদ মহসীন হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস এবং বর্তমানে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাব।
আফরোজা খন্দকার নিপু একজন রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই মাকে দেখেছেন বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করার সুবাদে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার মা রাবেয়া আনোয়ারকে ডেকে নিয়ে জাগোদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত করেন। তারপর থেকেই তার পথচলা। জেলা মাহিলা দল এবং বিএনপির গুরুত্বপুর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মূলত মায়ের উৎসাহেই আফরোজা খন্দকার নিপু ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। শুধু হল ছাত্রী সংসদের জিএসই নয় বরং ৯০ এর স্বৈরাচার বিরুধী আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে আলোচনায় ছিলেন।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য (রিজভী-ইলিয়াস কমিটি) আফরোজা খন্দকার নিপু একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক কর্মী এবং নিবেদিত প্রাণ সংগঠক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাজ এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি তার দল এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
তৎকালীন আ.লীগ সরকারের প্রতিহিংসার শিকার আফরোজা খন্দকার (নিপু) আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জুলুমের শিকার হয়েছেন তবু বিএনপি ত্যাগ করেননি। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে তৎকালীন সরকার জোরপূর্বক তাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ডিজিএম পদ থেকে বরখাস্ত করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী আফরোজা খন্দকার নিপু সমাজসেবা, উন্নয়ন ও দলীয় সংগঠন শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে নিজ নির্বাচনি এলাকায় সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে দলীয় প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে জনসংযোগ উপকমিটির (বনানী-ভাসানটেক) যুগ্ম সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য মির্জাপুর উপজেলার ইচাইল গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আফরোজা খন্দকার নিপু শিক্ষাজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীনির সাথে যুক্ত থেকে অদ্যবধি শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারন করে কাজ করে যাচ্ছেন। তার পরিবারের অবদান এবং তার নিজের কর্মকান্ড সংরক্ষিত আসন থেকে এমপি হবার যোগ্যতা রাখেন তিনি।
মির্জাপুর পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি খন্দকার মোবারক হোসেন বলেন, আফরোজা খন্দকার নিপু পাবিারিকভাবেই একজন রাজনৈতিক কর্মী। তিনি তার স্বামী সাইদুর রহমান সাইদ সোহরাবের সাথে সামনতালে মির্জাপুর তথা টাঙ্গাইলে বিএনপির সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। বিএনপি যদি এই ত্যাগী কর্মীকে মূল্যায়ন করে তবে সারা টাঙ্গাইলে তার নেতৃত্বে নারী উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা থাকবে।
আফরোজা খন্দকার নিপু বলেন, পরিবার থেকে বিএনপির রাজনীতির প্রতি ঝোক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আমার মায়ের দলে যে অবদান তা ছোটবেলা থেকেই দেখেছি। দলের সাথে যুক্ত থেকে অনেক বৈষম্যের শিকার হয়েছি। কিছু পাই বা না পাই আদর্শ থেকে সরে যাইনি। বাকি জীবনটা এই আদর্শ ধারন করে দলের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
ইখা