আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরু করলেন রোজা। কিন্তু দুপুরের পর অল্প মাথা ঘোরা, বিকেলে দুর্বলতা - ভাবলেন এসব হয়তো স্বাভাবিক। কিন্তু এসবই হতে পারে আপনার জন্য বিপদের আগাম সংকেত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রোজার সময় শরীরের প্রতিটি ছোটোখাটো সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
লম্বা সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) বা বেড়ে যেতে পারে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া)।এই দুটোই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আগে থেকেই যেনে রাখা দরকার – কোন লক্ষণগুলো ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করে।
রক্তে শর্করা ৩.৯ মিলিমোল/লিটার-এর নিচে নেমে গেলে
রক্তে শর্করা ৩.৯ মিলিমোল/লিটার বা তার নিচে নামলে তা হাইপোগ্লাইসেমিয়া হিসেবে ধরা হয়। এই অবস্থায় ঘাম, কাঁপুনি, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি হতে পারে। এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে রোজা ভাঙা জরুরি।
রক্তে শর্করা ১৬.৭ মিলিমোল/লিটার-এর ওপরে গেলে
অতিরিক্ত উচ্চ শর্করাও সমান বিপজ্জনক। সুগার ১৬.৭ মিলিমোল/লিটার ছাড়ালে রোজা চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
অস্বাভাবিক দুর্বলতা: অতিরিক্ত ক্লান্তি, চোখে ঝাপসা দেখা, বুক ধড়ফড় বা অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি হলে রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ।
বমি, ডায়রিয়া বা জ্বর হলে: রোজা রাখা অবস্থায় শরীরে পানিশূন্যতা দ্রুত বাড়ে। ডিহাইড্রেশন ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তাই অসুস্থ অবস্থায় রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আগে থেকেই যাদের উচ্চ ঝুঁকি আছে: টাইপ–১ ডায়াবেটিস, অনিয়ন্ত্রিত সুগার, গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, কিডনি বা হৃদ্রোগ থাকলে রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
তাই বলা যায়, ডায়াবেটিস রোগীর জন্য রোজা রাখা সম্ভব, তবে কিছু শর্ত হলো সচেতনতা ও নিয়মিত মনিটরিং। ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের শরীরের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।তাই সন্দেহ হলে দেরি নয় - চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
এইচএ