মুমিনের প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদত, যদি তা অতিবাহিত হয় কোরআন ও সুন্নাহ অনুসারে। মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতিটি কাজের হিসাব করেন তার নিয়তের ওপর নির্ভর করে। হাদিস শরিফে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১)
এই হাদিসের আলোকে নারীদের রান্নাও ইবাদত হিসেবে গণ্য হতে পারে, যদি তা হয় সঠিক নিয়তে। আর যখন এই রান্না হবে রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য, তখন এর সওয়াব আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।
পবিত্র রমজানে সাহরি প্রস্তুত করা, ইফতার আয়োজন করা, পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা করা– এসব কাজ শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি রোজাদারদের রোজা রাখতে বিশেষ সহযোগিতা করা, যা ইবাদত। কারণ, নেক আমল যেমন ইবাদত, ঠিক তেমনই নেক আমলে সহযোগিতা করাটাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নেক কাজের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা নেক আমল ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ২) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘মানুষের ইবাদত ও কল্যাণের কাজে সহযোগিতা করা নিজেও নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত।’
পবিত্র রমজানুল মোবারকে একজন মা-স্ত্রী-বোন যখন সাহরি প্রস্তুত করে পরিবারের সদস্যদের রোজার শক্তি জোগান বা ইফতারের আয়োজন করেন, তখন তিনি মূলত তাদের ইবাদতের সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। ফলে তার এই শ্রমও তাকওয়া ও নেক আমলের পথে সহযোগিতা হিসেবে গণ্য হয়।
কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, রান্নাবান্না নারীদের দৈনন্দিন কাজ, এটা ইবাদত হয় কীভাবে? এর উত্তর হতে পারে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) এর উক্তি। তিনি বলেন, ‘মুমিনের অভ্যাসগত কাজও সৎ নিয়তের কারণে ইবাদতে পরিণত হয়।’ (মাজমুআল-ফাতাওয়া)। সুতরাং রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা পরিবারের সেবা– এসব কাজ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরিবারের ইবাদতে সহায়তার নিয়তে করা হয়, তবে তা মহান ইবাদতের মর্যাদা লাভ করে।
এইচএ