প্রতি ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার শিকার হচ্ছে ইরান। রাজধানী তেহরানে চলছে দফায়-দফায় হামলা। বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে অভিযান। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ এক চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে পৌঁছেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরানও। অভিযানের টার্গেট মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি এবং মিত্রদের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা।
স্থানীয় সময় শনিবার (৭ মার্চ) ভোরে এ হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই হুমকি প্রতিহত করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
কোম শহরে যৌথ হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ২ জন। নাতাঞ্জ শহরের কাছেও হয়েছে বিস্ফোরণ। এ সপ্তাহে ইরানে ৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, অভিযান শুরুর পর গত এক সপ্তাহে ধ্বংস করা হয়েছে তেহরানের ৪৩টি যুদ্ধজাহাজ।
এদিকে, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন। ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার মাঝেই শনিবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে তীব্র বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাইদ ইরাভানি অভিযোগ করেছেন, আমেরিকা ও ইসরায়েল ‘ঘনবসতিপূর্ণ’ বেসামরিক এলাকায় বোমা হামলা চালিয়ে সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন ও সীমা (রেড লাইন) লঙ্ঘন করছে। গত সপ্তাহান্তে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত এক হাজার ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, যেখানে ১৬৫ জন ছাত্রী নিহত হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই হামলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দায়ী করার পর জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এইচএ