কক্সবাজারের টেকনাফে হঠাৎই এক অচেনা উত্তেজনা। মৎস্য বন্দরে ভিড় জমেছে মানুষ। সবার চোখ এক জায়গায়- বরফের ওপর শোয়ানো বিশালদেহী এক মাছ। স্থানীয়দের ভাষায় ‘পাখি মাছ’। ওজন প্রায় ২০০ কেজি। গভীর সমুদ্র থেকে ধরা পড়ে রোববার সন্ধ্যায় বন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই সেটিকে ঘিরে কৌতূহলের শেষ নেই।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা সব্বির আহমেদের ট্রলার ১১ জন মাঝিমাল্লা-জেলেকে নিয়ে সাগরে যায়। সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলতেই অন্য মাছের সঙ্গে উঠে আসে অস্বাভাবিক বড় আকারের এই মাছটি।
জেলেদের ভাষায়, এমন দৃশ্য জীবনে কবারই বা দেখা যায়। স্থানীয়ভাবে ‘মাইট্যা’ বা ‘পাখি মাইট্যা’ নামে পরিচিত এই মাছটি আসলে সমুদ্রের দ্রুতগামী প্রজাতির একটি। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি Sailfish বা Marlin গোত্রের। এদের পিঠের উপরের পাখনাটি অনেকটা প্রসারিত ডানার মতো দেখতে। সেই বৈশিষ্ট্য থেকেই উপকূলের জেলেরা নাম দিয়েছেন ‘পাখি মাছ’। গভীর সমুদ্রের বাসিন্দা হওয়ায় উপকূলের কাছে এমন বড় আকারের মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। বন্দরে আনার পর ওজন করে দেখা যায়, মাছটির ওজন প্রায় ২০০ কেজি।
ট্রলার মালিক সব্বির আহমেদ জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ী সৈয়দ আলমের কাছে ৪০ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করেছেন তিনি। তিনি বলেন, এত বড় মাছ আমাদের জালে আগে পড়েনি,দেখেই সবাই অবাক। টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ফিশারিতে বরফ দিয়ে মাছটি সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী সৈয়দ আলম বলেন, স্থানীয় বাজারে এমন বড় মাছের ক্রেতা সীমিত। তাই ভালো দামের আশায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় মাছটি চট্টগ্রামে পাঠানো হচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরের গভীর জলরাশি মাঝে মাঝে এমন চমক এনে দেয়। উপকূলের জেলেদের জীবনে প্রতিদিনের লড়াইয়ের ভেতর হঠাৎ ধরা পড়া এই বিশাল ‘পাখি মাছ’ তাই শুধু বাজারের খবর নয়, কৌতূহল আর বিস্ময়েরও গল্প বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এসআর