নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নৌকা প্রতীকের এক ইউপি চেয়ারম্যানের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার নিয়ে চলছে ভানুমতির খেল৷ বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের চব্বিশ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সেটিকে 'ভুলবশত নেয়া সিদ্ধান্ত' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে কেন্দ্র। সেইসাথে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বহিস্কারাদেশ অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভুলবশত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হচ্ছে—মো. মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকবে।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত পৃথক বিবৃতিতে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এই প্রত্যাহার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে অনেক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘কেন্দ্রের প্রেরিত এক চিঠিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মো. মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার স্থগিত করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, বিগত আওয়ামী শাসনামলের পুরোটা জুড়েই সেন্টু সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৭ সালে এক সমাবেশে শামীম ওসমানের প্রশংসা করতে গিয়ে সেন্টু বলেন, 'উন্নয়নের মাধ্যমে শামীম ওসমান জনগণের পীর হয়ে গেছেন।'
২০১৮ সালে তাকে শামীম ওসমানের জন্য নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে ভোট চাইতে দেখা যায় তাকে৷ ফলে ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর ফতুল্লা থানা বিএনপির সহসভাপতি পদ থেকে মনিরুল আলম সেন্টুকে বহিষ্কার করে বিএনপি। এরপর সেন্টু জানান, তিনি আওয়ামী লীগের সদস্যপদ নিয়েছেন। ২০২১ সালের ৯ অক্টোবর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড মনিরুল আলম সেন্টুকে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেয়। ওই নির্বাচনে সেন্টু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হন। তিনি এখনো চেয়ারম্যান পদে বহাল।
ইখা